থাইল্যান্ডে শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের (ইভি) ব্র্যান্ডগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে চীনের গ্রেট ওয়াল মোটর। প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান ধরে রাখতে বিনিয়োগ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। থাই বাজারে প্রবেশের দুই বছরে ১ হাজার ২০০ কোটি বাথ (৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করেছে গ্রেট ওয়াল। প্রতিষ্ঠানটি আরো ১ হাজার কোটি বাথেরও বেশি বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
গ্রেট ওয়াল মোটর থাইল্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ন্যারং শ্রীতলায়ন বলেন, ইভি উৎপাদনে আমাদের বিনিয়োগে এখন পর্যন্ত তিন হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। আমরা থাইল্যান্ডে মোট ২ হাজার ২৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছি। থাইল্যান্ডকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইভি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে আমরা কেবল ইভিতে নয়, যন্ত্রাংশ ও ইভি অবকাঠামো তৈরি করতে চাই।
জেনারেল মোটরসের একটি গাড়ি সংযোজন কারখানা অধিগ্রহণ করে ২০২০ সালের থাই বাজারে প্রবেশ করে গ্রেট ওয়াল। কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সংস্থাটি ১১ হাজার ৭৯৬ ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে। গাড়ি বিক্রিতে সংস্থাটি ফেডারেশন অব থাই ইন্ডাস্ট্রিজের ২০২১ সালের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফেডারেশন আশা করছে চলতি বছর প্রায় ১০ হাজার ইভি বিক্রি হবে। যদিও বিশ্লেষকরা অনেক বেশি আশাবাদী। আবার ইভির চাহিদা বাড়ানোর জন্য সরকারও নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।
ব্যাংককভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক টিএমবি থানাচার্ট ব্যাংকের একটি ইউনিট টিটিবি অ্যানালিটিকস পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইভি বিক্রি ৬৩ হাজার ৬০০ ইউনিটে পৌঁছবে। এ সংখ্যা ২০২১ সালের চেয়ে ৫৩৯ শতাংশ বেশি।
জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে গ্রেট ওয়ালের দুটি জনপ্রিয় মডেলের বিক্রি ৮ হাজার ৯৪ ইউনিটে উন্নীত হয়েছে। এ দুই মডেল হলো হাইব্রিড এসইউভি হ্যাভ্যাল এইচ৬ ও ইভি ওরা গুড ক্যাট। মডেল দুটি গ্রেট ওয়ালকে দেশটির সবচেয়ে বড় ইভি বিক্রেতা করে তুলেছে।
ন্যারং শ্রীতলায়ন ইভি বিক্রি বাড়ার জন্য সরকারি ভর্তুকি ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন। এ ভর্তুকির কারণে ইভি আরো সাশ্রয়ী হয়ে উঠছে এবং আরো বেশি প্রতিষ্ঠান ইভি উৎপাদনে মনোযোগী হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে থাই সরকার মডেল ও ব্যাটারির ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে গাড়িপ্রতি ৭০ হাজার বাথ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার বাথ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে ভর্তুকির ঘোষণা দেয়। জুনে সরকার ইভি আমদানি শুল্ক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নিয়ে আসে। যদিও ইভি নির্মাতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমদানি শুল্ক কমানো হলে সংস্থাগুলো দেশটিতে উৎপাদনে যাবে।
সরকারের এ নীতিগুলো থাইল্যান্ডকে আসিয়ানের ইভি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে বিক্রি হওয়ার সব যানবাহনের মধ্যে ইভির অনুপাত ৩০ শতাংশ উন্নীতে সহায়তা করছে। গ্রেট ওয়াল আগামী বছর চারটি নতুন ইভি মডেল উন্মোচনের পরিকল্পনা করছে। দেশটিতে উৎপাদন হওয়া ৬০ শতাংশ গাড়ি স্থানীয় বাজারে এবং এবং ৪০ শতাংশ রফতানি করা হবে বলেও জানান ন্যারং শ্রীতলায়ন।










