পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য। এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আমদানি ও রফতানি শক্তিশালী হওয়ায় চলতি বছর নিয়ে আশাবাদ চাঙ্গা হয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য কার্যক্রমের মাসিক প্রবৃদ্ধি এপ্রিলে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। যদিও সংখ্যাটা ২০২২ সালের একই মাসে পাওয়া ২ দশমিক ১ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য বিস্তৃতির তুলনায় বেশ কম বলে জানিয়েছে জার্মানিভিত্তিক থিংক ট্যাংক।

বৈশ্বিক কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেখানে আমদানি ও রফতানি দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক বাণিজ্য ব্যবস্থা তৈরি হতে দেখা গেছে। দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ২ দশমিক ৭ ও ২ দশমিক ২ শতাংশ। জার্মানিতে এ সময়ে আমদানি বেড়ে যায় ২ দশমিক ২ শতাংশ, কিন্তু রফতানি কমে যায় দশমিক ৭ শতাংশ, ফলে একটা ঝাপসা চিত্র তৈরি হয় ইউরোপের সবচেয়ে বড় এ অর্থনীতিতে।

২০২৩ সালে জার্মানির মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জানুয়ারির শেষে বলা দশমিক ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দশমিক ৪ শতাংশ করা হয়েছে। বার্লিন গত মাসে জানিয়েছে, শীতকালে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে তাদের।

কিয়েল ইনস্টিটিউটের ট্রেড ইন্ডিকেটরের প্রধান ভিনসেন্ট স্ট্যামার এক গবেষণায় লিখেছেন, আন্তঃইউরোপীয় বাণিজ্য আরো লাভবান হচ্ছে। যেমন ফ্রান্সের বাণিজ্য পণ্য। একক কোনো বাজারের বাইরে গিয়ে যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মতো প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রেও এপ্রিলে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে।

কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বিশ্ববাণিজ্য। কিন্তু এরপর বেশকিছু সামষ্টিক অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়েছে বাণিজ্য ব্যবস্থা। তার মধ্যে কয়েক দশকের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলেও বেশ বাধার সৃষ্টি হয়।

আগে ধারণা করা হয়েছিল সরবরাহে বাধা দূর হওয়া সত্ত্বেও চলতি বছর বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যাবে, পরে ২০২৪ সালে গিয়ে তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ উন্নীত হবে। ২০২২ সালে যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে, আগে যা বলা হয়েছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। জাতিসংঘের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সের সাম্প্রতিক ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট আপডেটে এমন চিত্র দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রই আরেকটি বড় অঞ্চল শুধু যার প্রবৃদ্ধিতে নজর রাখার বিষয়ে সতর্ক ছিল কিয়েল ইনস্টিটিউট। দেশটিতে রফতানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আমদানির সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময়ে হালকা মন্দাভাবের আশঙ্কাও অনেক বাড়ে বলে জানিয়েছে কমার্স ডিপার্টমেন্ট। আরেকটি বড় অর্থনীতির দেশ চীনে এপ্রিলে রফতানি কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ আর আমদানি বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ।