চলতি বছরের এপ্রিলে ইউক্রেনের শস্য রফতানি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। তুলনামূলক বাড়তি উৎপাদন এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা শিথিল হওয়ায় রফতানি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যমতে, মার্চে দেশটি সব মিলিয়ে ৫৫ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করেছে, এপ্রিলে যা বেড়ে ৬৩ লাখ টনে উন্নীত হয়। এর মধ্যে ৪১ লাখ টন ভুট্টা, ১৯ লাখ টন গম ও ২ লাখ ৩১ হাজার টন যব রফতানি করে দেশটি।

তবে এপ্রিলে বাড়লেও ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশটির রফতানি কিছুটা কমেছে বলেও নিশ্চিত করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ সময় মোট শস্য রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৪ লাখ টনে, আগের মৌসুমের একই সময় যা ছিল ৪ কোটি ১৬ লাখ টন। এ ১০ মাসে মোট রফতানীকৃত শস্যের মধ্যে রয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ টন গম, ২ কোটি ২৯ লাখ টন ভুট্টা ও ২২ লাখ টন যব।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দেয়া তথ্যমতে, রাশিয়া ইউক্রেনের বন্দরগুলোর অবকাঠামো এবং কৃষ্ণসাগরে এখনো হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় বিভিন্ন সময় বন্দরের শস্য মজুদাগার ও জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও মিলেছে। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও গত মাসে খাতসংশ্লিষ্টরা শস্য রফতানি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। এপ্রিলে ৬০-৭০ লাখ টন শস্য রফতানি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তারা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় প্রত্যাশার কাছাকাছি শস্য রফতানি করেছে দেশটি।

ইউক্রেন সরকারের প্রত্যাশা অনুসারে, ২০২৩ সালে আবাদকৃত মোট খাদ্যশস্য ও তেলবীজ থেকে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৮ কোটি ১৩ লাখ টন। এটি থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুমের জন্য রফতানিযোগ্য উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় পাঁচ কোটি টন।

এক পূর্বাভাসে ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছর দেশটির সম্মিলিত শস্য ও তেলবীজ উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা কমে ৭ কোটি ৪০ লাখ টনে নামতে পারে। এর মধ্যে শুধু শস্য উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৫ কোটি ২৪ লাখ টনে।

ইউক্রেন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম শস্য রফতানিকারক। রুটির ঝুঁড়ি হিসেবে খ্যাত দেশটির প্রধান শস্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে গম, ভুট্টা ও বার্লি। ইউক্রেন প্রায় ৯৫ শতাংশ খাদ্যশস্যই কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে রফতানি করে। কিন্তু রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পর এসব বন্দর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় রফতানি। ওই সময় ইউক্রেন রফতানির বিকল্প পথ হিসেবে দানিয়ুব নদীবন্দর ও রেলপথ ব্যবহার শুরু করে। তবে এসব পথ দিয়ে খুবই স্বল্প পরিমাণে শস্য রফতানি করতে সক্ষম হয়েছিল দেশটি।

এদিকে ইউক্রেনের রফতানি তলানিতে নেমে যাওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়ে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য বিষয়টি অনেক বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে দাঁড়ায়। এ পরিস্থিতিতে রফতানি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেয় জাতিসংঘ ও তুরস্ক। তাদের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য রফতানিসংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে রাশিয়া ও ইউক্রেন।

গত জুলাইয়ে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে আর শস্য চুক্তি নবায়ন করেনি মস্কো। এরপর থেকে কৃষ্ণসাগরে নিজস্ব করিডোর ব্যবহার করে শস্য রফতানি করছে ইউক্রেন। এক্ষেত্রে রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও তুরস্কের জলপথ ব্যবহার করছে দেশটি। সম্প্রতি এ জলপথ দিয়ে দেশটির শস্যবাহী জাহাজ চলাচল বেড়ে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরেছে।