নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) নিলামে প্রতি টন দুগ্ধপণ্যের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৬৩ ডলারে। এ নিয়ে টানা তিন নিলামে দর বেড়েছে দুগ্ধপণ্যের। মূলত সরবরাহ কমায় এ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

দ্য ফার্মারস জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, গত নয়টি নিলামের মধ্যে সাতটি নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম বেড়েছে। নিলাম তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম নিলামে দাম বাড়লেও সে অনুপাতে চাহিদা বাড়েনি। ফলে বিক্রির পরিমাণ কমেছে।

প্রতি মাসে দুবার নিউজিল্যান্ডে দুগ্ধপণ্যের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক নিলাম বসে। এর আয়োজন করে ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। এবারের নিলামে ১৫২ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। এর মধ্য থেকে ১১৫ জন দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন। নিলামে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৯৬৬ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৬ হাজার ২০৬ টন। আগের নিলামে বিক্রি হয়েছিল ২৭ হাজার ৩৭৯ টন।

সর্বশেষ নিলামের তথ্যে দেখা গেছে, চারটি পণ্যের দাম কমলেও বেড়েছে তিনটির। আর অপরিবর্তিত ছিল একটির। জিডিটি নিলামে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি)। এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে পণ্যটির দাম। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ২৯০ ডলারে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে মাখনের দাম। টনপ্রতি পণ্যটির মূল্য উঠেছে ৫ হাজার ৫১৪ টাকায়। আর অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম টনপ্রতি দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারে। 

অন্যদিকে নিলামে সবচেয়ে বেশি কমেছে ল্যাকটোজের দাম। আগের নিলামে পণ্যটির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও এবার ৫ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে ল্যাকটোজ। প্রতি হাজার কেজির দাম নেমেছে ৭৫৩ ডলারে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে চেডার পনিরের দাম। এটি বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ১৬৫ টাকায়।

নিলামের তথ্যমতে, দশমিক ৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬১৩ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ (এসএমপি)। আগের নিলামেও ১ দশমিক ৩ শতাংশ দরপতন ঘটেছিল পণ্যটির। আর বাটার মিল্ক পাউডারের দাম কমেছে দশমিক ১ শতাংশ। প্রতি টনের দাম নেমেছে ২ হাজার ৩৮৪ ডলারে। এবার অপরিবর্তিত ছিল মোজ্জারেল্লা বা চিজের দাম। এটি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৯৬০ ডলারে।

এর আগে ডিসেম্বরে বড়দিন উৎসবের আগে অনুষ্ঠিত দুটি নিলামেই দুগ্ধপণ্যের দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকরা তখন নতুন বছরের শুরুতেও চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।