অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনকারী বহুজাতিক কোম্পানির করের পরিমাণ বাড়াতে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট গ্রুপ অব টোয়েন্টির (জি২০) সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গুজরাটে শুরু হওয়া বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের এ বৈঠকে এ ধরনের প্রস্তাবের কথা আগে থেকে জানায়নি ভারত। ফলে বৈঠকে ভারতের এ প্রস্তাব নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো দেশ প্রস্তাবে নাখোশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৪০টিরও বেশি দেশে আগামী বছর থেকে ২০২১ সালের একটি চুক্তি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে, যাতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ট্যাক্স দেয়ার বিষয়ে কয়েক দশকের পুরনো নিয়মগুলো সংশোধন করার কথা রয়েছে। বর্তমান নিয়মগুলো সেকেলে হওয়ায় কম ট্যাক্সের দেশগুলো থেকে অ্যাপল বা অ্যামাজনের মতো ডিজিটাল জায়ান্টগুলো ব্যাপক মুনাফা তুলে নিচ্ছে।
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহৎ বৈশ্বিক ফার্মগুলো ১৫ শতাংশ কর দেবে এবং অতিরিক্ত লাভের ওপর ২৫ শতাংশ কর দেবে। কিন্তু চুক্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে আটকে আছে। পরিকল্পনার একটি প্রধান উপাদানকে কেন্দ্র করে বহুপক্ষীয় চুক্তিটি নিয়ে বেশ কয়েকটি দেশের উদ্বেগ রয়েছে। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, সংশোধনী প্রস্তাবটি কার্যকর না হওয়ার আশঙ্কা করেছেন।
ভারতীয় এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারত বহুজাতিক কোম্পানির অতিরিক্ত মুনাফার ওপর করারোপ অধিকারের মাধ্যমে ন্যায্য অংশ পাওয়ার প্রস্তাব তুলেছে। প্রস্তাবটি ওইসিডিকে দেয়া হয়েছে এবং জি২০ বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’
ওইসিডির সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। জি২০ সভা সামনে রেখে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়াতে চায়। তবে দেশটি কী পরিমাণে বাড়াতে চাচ্ছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। ভারতের অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ওইসিডি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
চুক্তির অধীনে বছরে ২ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করা বৈশ্বিক করপোরেশনগুলোর মুনাফার পরিমাণ যদি ১০ শতাংশ বাড়ে তাহলে তারা ‘অতিরিক্ত মুনাফা’ করছে বলে ধরা হয়। এ অতিরিক্ত মুনাফার ২৫ শতাংশ দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়ার নিয়ম রয়েছে।
ভারতে ব্যবসা করা বৈশ্বিক ফর্মগুলো থেকে সর্বোচ্চ কর বুঝে নেয়ার চেষ্টা করছে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটি। দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিপোর্ট ২০২৩ অনুযায়ী, চীনকে টপকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ ভারত। চীনের ১৪২ কোটি ৫৭ লাখের চেয়ে ২৯ লাখ বেশি মানুষ নিয়ে ভারতের মোট জনসংখ্যা এখন ১৪২ কোটি ৮৬ লাখ। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তাবাজারও দেশটির দখলে।
পিপলস রিসার্চ অন ইন্ডিয়াস কনজিউমার ইকোনমির সমীক্ষা অনুসারে, ২০৪৭ সালের শেষ নাগাদ ভারতীয় জনগণের গড় আয় ১৩ গুণেরও বেশি বেড়ে ২৭ হাজার ডলারে পৌঁছবে।










