চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। মূলত শুল্কযুক্ত পণ্যের নিম্নমুখী আমদানির কারণেই রাজস্ব কমেছে। বর্তমানে আমদানিকারকদের মাঝে এলসি খোলার প্রবণতাও অনেক কম বলে জানিয়েছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা।

হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) রাজস্ব আয় হয়েছে ২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময় রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

জানা গিয়েছে, নতুন অর্থবছরের এক মাস পার হলেও হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ হয়নি। তাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রশ্ন উঠছে না। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পর রাজস্ব আদায়ের তুলনামূলক মূল্যায়ন করা যাবে। তবে গত বছরের তুলনায় রাজস্ব আয় কিছুটা কমেছে। শুধু হিলি স্থলবন্দরে নয়, অন্যান্য বন্দরেও আয় কমেছে। এলসি খোলার হার কমেছে ৩১ শতাংশ।

সূত্র জানায়, সদ্যবিদায়ী হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ সময় বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষে আহরণ হয়েছে ৪২৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। চালসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি কমার কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি বলে দাবি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। এদিকে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিরাজমান সমস্যা নিরসন করা হলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার বাড়তি ৮৭ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়। ফলে ২০২১-২২ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে ৪৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে এনবিআর।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে চাল আমদানিতে রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ৮২ কোটি টাকার মতো। কিন্তু ২০২১-২২ অর্থবছরে চাল আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানোয় বন্দর দিয়ে আমদানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। সেই সঙ্গে অন্যান্য শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি কিছুটা কম হওয়ার প্রভাব পড়েছে।