চাহিদা অনুসারে মানসম্মত পণ্য মিলছে না মধ্যপ্রাচ্যের দোকানগুলোয়। বেড়ে গেছে জীবনযাত্রার ব্যয়। ফলে খরচ কমাতে দুই-তৃতীয়াংশ ক্রেতাই ক্রয়ের পরিধি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছেন। এমনটাই উঠে এসেছে পিডব্লিউসির সাম্প্রতিক এক জরিপে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা গৃহস্থালি পণ্যের দাম নিয়ে আশঙ্কা জানিয়েছেন। মিসরের ৪০, সৌদি আরবের ৩৫ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২৮ শতাংশ ব্যক্তি জানান নেতিবাচক মনোভাবের কথা। অনুসন্ধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে যাওয়া ও বিপরীতে মূল্য বাড়ার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তার সঙ্গে রয়েছে অনলাইন অর্ডারে সরবরাহে বিলম্বের ঘটনা। ক্রেতারা এখন বারবার বাজারের দোকান ও অনলাইন স্টোরগুলোয় ঘোরাঘুরি করছেন। তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় করছেন মানসম্মত পণ্য বাছাই করতে।
পিডব্লিউসির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির মধ্যপ্রাচ্য বাজার তত্ত্বাবধায়ক নরমা তাকি জানিয়েছেন, চলমান মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতারা। বেড়ে গেছে জীবনযাত্রার ব্যয়। ফলে পরিবর্তন এসেছে ভোক্তাদের ক্রয়ের ধরন ও পণ্য বাছাই প্রক্রিয়ায়ও। বর্তমানে ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তারা অনলাইন ও সরাসরি দোকান দুটি পন্থাই গ্রহণ করছে। পেছনে কেবল খরচ কমিয়ে আনার উদ্দেশ্য।
২০২২ সালে মধ্যপ্রাচ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির ব্যারোমিটারে মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থান ছিল ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার চেয়ে অনেক ইতিবাচক। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সরকারের মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতিই ছিল মূল্যস্ফীতি কম থাকার প্রধান কারণ। এদিকে বিশ্ববাজারে সংকট থাকার পরও মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের দাম ছিল নাগালের মধ্যেই। তবে বর্তমান সময়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। অনেক পরিবারই কমিয়ে এনেছে খরচ। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বিষয়টি আরো ভালোভাবে দৃশ্যমান। চলতি বছরের মার্চে মিসরের মূল্যস্ফীতি ৩৩ শতাংশ অতিক্রম করেছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে পিডব্লিউসি জানিয়েছে, ক্রেতারা মুদি কেনাকাটায় ৪৭, ফ্যাশনে ৪০ ও ইলেকট্রনিকসে ৩৬ শতাংশ খরচ করে। তবে ভোক্তারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। ঘরোয়া বিনোদন ও ভার্চুয়াল কার্যক্রম ও নানা পরিকল্পনাকে সংকুচিত করে আনছে নতুন পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিতে।
মিসর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৭৭১ জন ব্যক্তিকে নিয়ে জরিপ চালিয়েছে পিডব্লিউসি। তাদের মধ্যে ৮৬ শতাংশের বয়স ১৮-৪১ বছরের মধ্যে, যা ওই অঞ্চলে তরুণদের প্রাধান্যকেই তুলে ধরে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ চাকরিজীবী ও ৩৯ শতাংশ হাইব্রিড। মূল্যস্ফীতির কারণে পরিবর্তিত হচ্ছে তাদের জীবনযাত্রা।










