২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার যানবাহন বিক্রি স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সেসঙ্গে কমে আসবে ক্রয়াদেশ দেয়ার পর অপেক্ষা করার সময়। আরএইচবি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের বিশ্লেষক জিম লিম বলেন, ‘‌সাম্প্রতিক তথ্যানুমানের ভিত্তিতে বলা যায়, গাড়ির বিক্রি ২০২৪ সালে আবার স্বাভাবিক হবে। কারণ প্রায় সব ব্র্যান্ডেই সম্প্রতি ক্রয়াদেশের যে আকার রয়েছে তা আবার সঠিক পথে ফিরে এসেছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

বেশকিছু মডেলের গাড়ির জন্য এমনকি নির্দিষ্ট কিছু রঙের ক্ষেত্রেও এখন আমদানি বিভাগ ছাড়া কোনো ওয়েটিং টাইম নেই, এমনকি যেসব ক্রয়াদেশে দেরি হচ্ছে, সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শুধু টয়োটা, পেরোডুয়া ও হোন্ডার সব মডেলের জন্য ওয়েটিং টাইম রয়েছে।

লিম বলেন, ‘‌বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কিন্তু সেটা খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাড়বে বলে মনে হয় না।

মালয়েশিয়ার অটোমোটিভ খাত ২০২২ সালে ৭ লাখ ২০ হাজার ৬৫৮ ইউনিট বিক্রির নতুন ইতিহাস গড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে সংখ্যাটা ৬ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে নেমে আসবে।

লিম বলেন, ‘‌একটি সাধারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে শক্তিশালী কার্যক্রম এ বাজারে দামের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে টয়োটা ও পেরোডুয়ার ক্ষেত্রে। 

ক্রয়াদেশের মাত্রার ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য অবনমনের বিষয়ে খুব কাছ থেকে নজর রাখা হচ্ছে বলে বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস। কারণ সেটাই গাড়ি প্রস্তুতকারকদের আয় কমার বিষয়ে একটি প্রাথমিক নির্দেশক। 

তিনি আরো বলেন, ‘‌২০২৪ সালের জন্য দুর্বল সম্ভাবনার বিষয়টিকে এ বাজার বিবেচনায় নিয়েছে। এ সময়ে ক্রয়াদেশের পরিমাণ স্বাভাবিক হচ্ছে এবং অপেক্ষার সময় আরো কমে আসছে। আমাদের বিশ্বাস, মোটরগাড়ি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টকের বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি সতর্ক হয়ে উঠছে।

লিম বলেন, ‘‌অটোমোটিভ কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে সিনিয়র নির্বাহীরাও এখন চলতি বছরের অভ্যন্তরীণ মোটরগাড়ি বাজারের সম্ভাবনার বিষয়ে আশাবাদী। টয়োটা ও পেরোডুয়া তাদেরই একজন। প্রতিষ্ঠান দুটি ক্রয়াদেশ পেয়েছে যথাক্রমে ৪৯ হাজার ইউনিট এবং ১ লাখ ৯০ হাজার ইউনিট। ফলে দুটি ব্র্যান্ডই তাদের ২০২৩ সালের বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৯৩ হাজার ইউনিট এবং ৩ লাখ ১৪ হাজার ইউনিট অর্জনের পথে রয়েছে।’

লিম আরো বলেন, ‘‌টয়োটা ও পেরোডুয়ার জন্য আমাদের পূর্বাভাস, তারা এক লাখ ইউনিট এবং ৩ লাখ ২০ হাজার ইউনিটের বিক্রি অর্জন করতে পারবে। 

অন্যান্য প্রস্তুতকারক যেমন টান চং মোটর এখনো বেশকিছু বাধার মুখে পড়েছে, একই সময়ে সিমে ডার্বির অবস্থাও বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ তাদের চীনের কার্যক্রম পুনরুদ্ধার হতে বেশ সময় লাগবে।’