বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবল ক্লাবগুলো ২০২৪-২৫ মৌসুমে সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১ হাজার ২৪০ কোটি ইউরো বা ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার আয় করেছে। আয়ের এ অংক উল্লেখ করে ‘ডেলয়েট ফুটবল মানি লিগের’ সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবগুলো এখন ঘরোয়া সম্প্রচার চুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিয়েছে। এর পরিবর্তে বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি, স্টেডিয়াম থেকে আয় ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ড সম্প্রসারণের দিকে জোরালোভাবে নজর দিচ্ছে। খবর ইউরো নিউজ।
পরামর্শক সংস্থা ডেলয়েটের বার্ষিক এ প্রতিবেদনের ২৯তম সংস্করণ অনুযায়ী, শীর্ষ ২০টি ক্লাবের সম্মিলিত আয় এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১১ শতাংশ। তালিকায় ফের শীর্ষে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, টানা দ্বিতীয় মৌসুমে ১০০ কোটি ইউরোর বেশি আয়ের মাধ্যমে ক্লাবটি ইতিহাস গড়েছে। বাণিজ্যিক খাত থেকেই ক্লাবটি আয় করেছে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ইউরো। এতে মূল ভূমিকা রেখেছে মার্চেন্ডাইজিং ও স্পন্সরশিপ।
ডেলয়েট বলছে, এ পরিসংখ্যান ফুটবল ক্লাবগুলোর আয়ের ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘অবিশ্বাস্য রূপান্তরের’ প্রতিফলন। ক্লাবগুলো এখন মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ম্যাচ বাবদ ২৪০ কোটি ইউরো, সম্প্রচার থেকে ৪৭০ কোটি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ৫৩০ কোটি ইউরো আয় করেছে ক্লাবগুলো; যা তিন ক্ষেত্রেই রেকর্ড সর্বোচ্চ। এর মধ্যে বাণিজ্যিক আয় প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি ইউরোর সীমা ছাড়াল। এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খুচরা বিক্রি, স্পন্সরশিপ আয় বৃদ্ধি এবং স্টেডিয়াম ও আশপাশের জায়গার বিকল্প ব্যবহার।
ইউরোপজুড়ে ক্লাবগুলো এখন স্টেডিয়ামকে শুধু খেলার মাঠ নয়, বরং বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনা। বিশেষ করে যেসব বাজারে সম্প্রচার বাবদ আয়ের প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে, সেখানে ক্লাবগুলো নিজেদের লাইফস্টাইল ও অবসরভিত্তিক ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে আয়ের বিচারে শীর্ষে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্পেনের ক্লাবটির মোট আয় ১২০ কোটি ইউরো ছাড়িয়েছে, এর মধ্যে বাণিজ্যিক আয় ছিল ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ইউরো।
বার্সেলোনা ২০১৯-২০ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো মানি লিগের দ্বিতীয় স্থানে ফিরেছে। ক্লাবটির আয় ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। তৃতীয় স্থানে উঠে আসা বায়ার্ন মিউনিখ আয় করেছে ৮৬ কোটি ১০ লাখ ইউরো। এর পর পিএসজির আয় ৮৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো। ডেলয়েটের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর পিএসজি সফলভাবে ব্র্যান্ড মূল্য কাজে লাগাতে পেরেছে। এয়ার জর্ডানের মতো অংশীদারত্ব ক্লাবটিকে বৈশ্বিক জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ করে তুলেছে।
লিভারপুল পঞ্চম স্থানে উঠে এসে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ আয়ের ক্লাব হয়েছে, আয় করেছে ৮৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। আয় কিছুটা কমে যাওয়ায় ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অষ্টম স্থানে নেমে এসেছে, এটি মানি লিগের ইতিহাসে ক্লাবটির সবচেয়ে নিচের অবস্থান। এছাড়া সপ্তম স্থানে রয়েছে আর্সেনাল।
পুরুষদের তালিকার পাশাপাশি নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আয়কারী ১৫টি ক্লাবের তালিকা প্রকাশ করেছে ডেলয়েট। এতে দেখা যাচ্ছে, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানিতে নারী ফুটবলের প্রতি বাণিজ্যিক আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে মানি লিগ ক্লাবগুলোর আয় বার্ষিক গড়ে ৬ শতাংশ হারে বেড়েছে। তবে ডেলয়েট সতর্ক করে বলেছে, এ আয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে আরো বুদ্ধিদীপ্ত বাণিজ্যিক কৌশল, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং টেকসই প্রতিযোগিতা কাঠামোর ওপর।










