আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে অ্যারাবিকা কফির দাম। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) শুক্রবার পানীয় পণ্যটির দাম বেড়ে ১০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছে। মূলত সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে চিনির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
আইসিইতে মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে অ্যারাবিকা কফির দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি পাউন্ড লেনদেন হয়েছে ২ ডলার ৩৪ সেন্টে। এর আগের কার্যদিবসে পণ্যটির দাম উঠেছিল ২ ডলার ৩৮ সেন্ট পর্যন্ত।
এক নোটে ফিচ সলিউশন জানায়, কফির দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। শীর্ষ উৎপাদক দেশ ব্রাজিল ও কলম্বিয়ায় সরবরাহ সংকুচিত হয়ে আসায় বাজারে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে ঊৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে রোবাস্তা কফির দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২৫৪ ডলারে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে শীর্ষ রোবাস্তা উৎপাদক ভিয়েতনামে কফি প্রক্রিয়াকরণ মন্থর হয়ে পড়েছে।
এদিকে কফির দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে চিনির দাম। আইসিইতে প্রতি পাউন্ড চিনি ২০ দশমিক ১৭ সেন্টে লেনদেন হয়েছে। বৃহস্পতিবার পণ্যটি ২০ দশমিক ৬৯ সেন্টে লেনদেন হয়েছিল। তবে অপরিবর্তিত থাকলেও চিনির দাম তুলনামূলক ঊর্ধ্বমুখীই রয়েছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।
ফিচ সলিউশন জানায়, ব্রাজিলে আখের সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে চিনির পরিবর্তে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বেড়েছে। এ কারণে ভোগ্যপণ্যটির দাম বাড়ছে। সরবরাহ সংকটের উদ্বেগে চিনির বৈশ্বিক চাহিদাও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
এদিকে চলতি মৌসুমে থাইল্যান্ডে আখ উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খরার কারণে গত বছর দেশটির উৎপাদন কমে এক দশকের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল।
ইন্টারন্যাশনাল সুগার অর্গানাইজেশন সম্প্রতি এক পূর্বাভাসে জানায়, ২০২১-২২ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতি ২৫ লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছতে পারে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টন ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, চিনির ব্যবহার কমছে। এ কারণে ঘাটতি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে সাদা চিনির দাম কিছুটা অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ৫১৬ ডলার ৬০ সেন্টে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন ১৮ কোটি ১০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন কমায় সার্বিক উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে।










