সরবরাহ বৃদ্ধির খবরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার। অথচ একদিন আগেও পণ্যটির দাম সাত বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ছিল। খবর রয়টার্স।
তথ্য বলছে, রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে সৈন্য পাঠানোয় দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। তবে এ নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন মার্কিন প্রশাসনসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে একই সময় ইরানিয়ান অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাজারে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপে সাফল্য এলে ইরান অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ নতুন উচ্চতায় বাড়াতে সক্ষম হবে।
এ দুটি বিষয় বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে। গতকাল আইসিই ফিউচারসে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৩০ সেন্ট বা দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৯৭ ডলার ১৪ সেন্টে। অথচ এর আগে পণ্যটির দাম ৯৯ ডলার ৫০ সেন্টে উঠে এসেছিল, যা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও দশমিক ৩ শতাংশ বা ৩০ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৯২ ডলার ২১ সেন্টে। মঙ্গলবার পণ্যটির দাম উঠেছিল সর্বোচ্চ ৯৬ ডলার পর্যন্ত।
চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা আরো তীব্রভাবে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে জ্বালানি তেল উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক। মহামারী-উত্তর সময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ফলে চাহিদায় এ উল্লম্ফন দেখা দেবে বলে জানায় ওপেক।
বিশ্বব্যাপী সরবরাহ সংকটের বিপরীতে চাহিদা বাড়ছে লাফিয়ে। এ কারণে লাগাম ছাড়া হয়ে উঠছে জ্বালানি পণ্যের বাজার। প্রতি মাসেই ওপেক প্লাস তাদের উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। বিষয়টি বাজারকে আরো অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ওপেক জানায়, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক ব্যবহার দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়াবে। ওপেকের তথ্য অনুসারে, সর্বশেষ ২০১৯ সালে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি হয়েছিল।
ওপেক প্লাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার পরিমাণ দিনপ্রতি ৪১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বাড়বে। এতে গত মাসে ব্যবহারসংক্রান্ত করা পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।










