যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বাধিক বিক্রীত পিকআপের তালিকায় রয়েছে এফ-১৫০ লাইটনিং মডেল। সম্প্রতি পিকআপটির সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড। শিল্পবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অটোমোটিভ নিউজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর সিএনএন।
গুণগত মান পরীক্ষার প্রয়োজনে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সরবরাহ স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। তবে এর কারণ হিসেবে বিশেষ কোনো সমস্যার কথা উল্লেখ করেননি ফোর্ডের মুখপাত্র এমা বার্গ। গাড়ির নতুন মডেল বাজারে আনার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা তুলে ধরেন তিনি।
২০২৪ সালের শুরুতে এফ-১৫০ সিরিজের গ্যাসোলিনচালিত ও হাইব্রিড ট্রাকের সরবরাহ শুরু করেছিল ফোর্ড। ব্যাটারিচালিত লাইটনিংয়ের চেয়ে পেট্রল ও হাইব্রিড এফ-১৫০ বেশি বিক্রি করে ফোর্ড। এফ সিরিজের পূর্ণ আকারের পিকআপগুলো চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বাধিক বিক্রীত গাড়ির সারিতে রয়েছে, যা অন্য যেকোনো ব্র্যান্ডের গাড়ির চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে।
২০২৩ সালে ৭৫ লাখ এফ সিরিজের ট্রাক বিক্রি করেছে ফোর্ড। এ সংখ্যার মধ্যে লাইটনিং ছিল প্রায় ২৪ হাজার।
এমা বার্গ বলেন, ‘আমাদের ডিলারদের গোডাউনে এফ-১৫০ লাইটনিং ট্রাকের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। ফলে সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকরা যদি ফোর্ডের এই মডেল কিনতে চান, আশা করি তাদের বেগ পেতে হবে না।’
প্রায় এক বছর আগে ব্যাটারির সম্ভাব্য সমস্যার কারণে লাইটনিং উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল ফোর্ড। যদিও কয়েক সপ্তাহ বাদে আবার উৎপাদনে ফেরে কোম্পানিটি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য ফোর্ডের তৈরি গাড়ির দুটি অল-ইলেকট্রিক গাড়ির মধ্যে লাইটনিং একটি। অন্যটি হলো মুস্তাং ম্যাচ-ই। এটি ইলোন মাস্কের টেসলার মডেল ওয়াইয়ের অতি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী। গেল বছর ৪০ হাজারেরও বেশি মুস্তাং ম্যাচ-ই এসইউভি বিক্রি করেছে ফোর্ড।
ফোর্ডের প্রধান নির্বাহী জিম ফার্লে সম্প্রতি বলেন, ‘ফোর্ডের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিম রয়েছে, যারা নতুন প্রজন্মের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির মডেল উন্নয়নে কাজ করছে।’
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাণের দিকে ঝুঁকছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো। বিনিয়োগ করা হচ্ছে বিপুল অর্থ ও তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। নতুন প্রজন্মের দ্রুত পরিবহনের কথা মাথায় রেখে বাজারে এসেছে নতুন মডেলের গাড়ি। ফলে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ইভির বিক্রি। পরিবর্তন এসেছে গাড়ির গতিসীমা ও মডেলে। যদিও উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় বিস্তার তুলনামূলকভাবে ধীর। তবু ক্রমেই স্ফীত হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ইভির বাজার।










