বাংলাদেশে সরকারের প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক’ উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কোস্ট ফাউন্ডেশন, বিডিসিএসও প্রসেস ও ইক্যুইটিবিডি।

যৌথভাবে প্রকাশিত বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, তাদের এ অবস্থান তৃণমূল বাস্তবতার প্রতিফলন। বিডিসিএসও প্রসেসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দেশের ৫৪৫টি স্থানীয় পর্যায়ের এনজিও, আর ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কে রয়েছে ৭০টি অংশীদার সংগঠন, যা দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিনিধিত্ব করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, উন্নয়ন অর্থনীতিবিদদের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকে রূপান্তর করার ফলে প্রায়ই ‘মিশন ড্রিফট’ বা মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। বিশ্বব্যাংক ও কনসালটেটিভ গ্রুপ টু অ্যাসিস্ট দ্য পুওর (সিজিএপি)-এর গবেষণায় উঠে এসেছে, এ ধরনের রূপান্তরের ফলে ঋণের পরিমাণ বড় হয়, মাঠপর্যায়ের সামাজিক কার্যক্রম সংকুচিত হয় এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সেবার সুযোগ কমে যায়।

খসড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংককে ‘সামাজিক ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বাস্তবে ব্যাংকিং আইন মূলত মুনাফা ও মূলধন সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেয়। দরিদ্র সদস্যদের হাতে ৬০ শতাংশ শেয়ার থাকার প্রস্তাব থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকবে পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঞ্চয় ও বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাত বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত ও স্থিতিশীল ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও পরামর্শ ছাড়া এ খাতকে ব্যাংক কাঠামোয় রূপান্তর করা হলে স্থায়ী সামাজিক ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারের নামে যদি তাদের সঞ্চয় ও ঋণ ব্যবস্থাকে অনিশ্চিত ব্যাংকিং ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে।

-বিজ্ঞপ্তি