গত বছর করোনা মহামারীর ধাক্কায় জিম্বাবুয়ের স্বর্ণ উত্তোলনে ধস নামে। এ সময় দেশটি সরকারিভাবে ১৯ টন র্স্বণ উত্তোলন করেছিল। কিন্তু চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্যের কারণে এর এক-তৃতীয়াংশই বেহাত হয়ে যায়। জিম্বাবুয়ের সরকারি মুদ্রা প্রস্তুতকারক ও স্বর্ণ রফতানিকারকরা এ তথ্য জানান।
জিম্বাবুয়ে স্বর্ণ বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের দেয়া তথ্যমতে, স্বর্ণ চোরাচালানের কারণে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশটি প্রতি বছর ১৫০ কোটি ডলার রাজস্ব হারায়।
জিম্বাবুয়ের সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানান, মূল্যবান ধাতুটির বেশির ভাগই বেসরকারি ও ক্ষুদ্র উত্তোলকদের মাধ্যমে চোরাচালান হয়ে থাকে। তারা উত্তোলিত স্বর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অবৈধ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন।
জিম্বাবুয়ের মুদ্রা প্রস্তুতকারক ও স্বর্ণ পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ফিডেলিটি প্রিন্টার্স অ্যান্ড রিফাইনার্স (এফপিআর)। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানটি একচেটিয়াভাবে স্বর্ণ ক্রয়, পরিশোধন ও রফতানি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত বছর জিম্বাবুয়ে চোরাচালানিদের কাছে প্রায় ১১ টন স্বর্ণ হারিয়েছে।
জিম্বাবুয়ের তুলনায় মার্কিন ডলার অনেক বেশি স্থিতিশীল ও জনপ্রিয়। ফলে উত্তোলকরা মার্কিন ডলারের মাধ্যমেই স্বর্ণ লেনদেন করে থাকেন।
এফপিআরের হেড অব অপারেশনস মেহলুলেলি দুবে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে স্বর্ণের দাম পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে এফপিআরের কাছে স্বর্ণ বিক্রিতে আগ্রহ হারিয়েছেন বেশির ভাগ উত্তোলক। পরিবর্তে তারা চোরাচালানিদের কাছে উত্তোলনকৃত স্বর্ণ বিক্রি করে দেন।
তিনি আরো বলেন, চোরাচালান বন্ধে আমরা এরই মধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়া আমাদের উত্তোলকদের সর্বোচ্চ স্বর্ণ সরবরাহে উৎসাহিত করতে রফতানি প্রণোদনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, জিম্বাবুয়ের উত্তোলনকারীরা উত্তোলিত স্বর্ণের ৪০ শতাংশই সরকারি বিনিময়মূল্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য। কিন্তু উত্তোলকদের এফপিআরের কাছে স্বর্ণ সরবরাহে উৎসাহিত করতে এ বাধ্যবাধকতা কমিয়ে ২০ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির হেড অব ফাইন্যান্স পিটার ম্যাগারামোম্বে।
এফপিআর জানায়, ক্ষুদ্র উত্তোলকরা ২০১৯ সালে বৈধ ক্রেতাদের কাছে ১৭ দশমিক ৪৮ টন স্বর্ণ বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু গত বছর বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র ৯ দশমিক ৩৫ টন।
সূত্র:
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে










