এশিয়ার স্বর্ণের বাজারে গত সপ্তাহে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। অস্থিতিশীল দামের কারণে ক্রয় কমে যাওয়ায় প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো ভারতে মূল্যবান ধাতুটি ছাড়ে কেনাবেচা করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে চান্দ্র নববর্ষের আগে চীনে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা তুলনামূলক বেশি ছিল। খবর রয়টার্স।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ভারতের বুলিয়ন ডিলাররা দেশটির সরকার নির্ধারিত দামের ওপর আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ১২ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন। এতে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত ছিল। আগের সপ্তাহে ভারতে সর্বোচ্চ ৭০ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছিল। হায়দরাবাদভিত্তিক এক গহনা ব্যবসায়ী বলেন, ‘‌গহনা তৈরির খরচে ছাড় দিলেও নতুন চাহিদা তৈরি হয়নি। বর্তমান দামে খুচরা ক্রেতারা স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন না।’

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে গত শুক্রবার প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার রুপি (প্রায় ১ হাজার ৬৯৭ ডলার ৩৯ সেন্ট)। মুম্বাইভিত্তিক এক বুলিয়ন ডিলার বলেন, ‘‌সরকার চলতি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে স্বল্প শুল্কে প্রায় ৮০ টন স্বর্ণ আমদানির বরাদ্দ দিতে পারে, এমন প্রত্যাশায় ডিলার ও গহনা ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ক্রয় কমিয়ে দিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার আওতায় স্বর্ণ ও রুপার সরবরাহে কম শুল্ক প্রযোজ্য হয়।’

চীনে ১৫ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া নয়দিনের চান্দ্র নববর্ষের ছুটির আগে গত সপ্তাহে স্পট মার্কেটের তুলনায় আউন্সপ্রতি ৮ ডলার ছাড় থেকে সর্বোচ্চ ১০ ডলার প্রিমিয়াম পর্যন্ত কেনাবেচা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘‌মৌসুমি হিসেবে এ সময় চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এছাড়া পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) সীমিত পরিসরে হলেও স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রেখেছে। দামের অস্থিতিশীলতা ও ছুটির মৌসুম সত্ত্বেও গহনার চাহিদা তুলনামূলক স্থিতিশীল।’

হংকংয়ে গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ ডলার ৮০ সেন্ট প্রিমিয়ামে কেনাবেচা হয়েছে। এ সময় জাপানে ৬ ডলার ডলার ছাড় থেকে ১ ডলার প্রিমিয়ামে স্বর্ণ বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া গত সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে আউন্সপ্রতি ৫০ সেন্ট ছাড় থেকে সর্বোচ্চ ৩ ডলার ৫০ সেন্ট প্রিমিয়ামে।