চলতি বছরের নয় মাসে ভারতের চা রফতানি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে সস্তা চা আমদানি। ফলে দেশটির চা উৎপাদন খাত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এদিকে ভারতের বার্ষিক চা রফতানিও কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় রফতানি কমতে পারে প্রায় ৮-১০ শতাংশ।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা কারণে ভারতের চা রফতানি কমেছে। এর মধ্যে অন্যতম কার্গো কনটেইনারের দুষ্প্রাপ্যতা। পর্যাপ্ত কনটেইনার না থাকায় রফতানিকারকরা চায়ের চালান যথাসময়ে গন্তব্যে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতের চা বোর্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরের নয় মাসে দেশটির চা রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৭০ লাখ কেজিতে। গত বছরের একই সময় রফতানি করা হয়েছিল ১৫ কোটি ৩০ লাখ কেজি। তবে প্রতি কেজি চা-ই চড়া দামে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করেছে ভারত। অর্থাৎ রফতানি কমলেও আয় ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

চা বোর্ডের তথ্য বলছে, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ভারত ৩ হাজার ৭৬৪ কোটি ৬৯ লাখ রুপির চা রফতানি করে। গত বছরের একই সময় রফতানি করা হয় ৩ হাজার ৬৩৭ কোটি ১৩ লাখ রুপির চা। সূত্র বলছে, রফতানির পরিমাণ কমলেও বেশি দামে প্রতি কেজি চা রফতানি করায় আয় বেড়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাশিয়া, ইউক্রেন ও কাজাখস্তানসহ কমনওয়েলথ ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসে (সিআইএস) সব মিলিয়ে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার কেজি ভারতীয় চা আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে। ওই সময় দেশগুলো ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার কেজি ভারতীয় চা আমদানি করেছিল।

ভারতীয় চায়ের শীর্ষ রফতানি গন্তব্য ইরান। চা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, নয় মাসে ইরানেও চা রফতানি কমেছে। রফতানি করা হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার কেজি চা। গত বছরের একই সময় রফতানি হয়েছিল ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার কেজি।

গত বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিবেশী দেশ চীনে ৭৬ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা রফতানি করেছিল ভারত। কিন্তু চলতি বছরের একই সময় দেশটিতে ভারতীয় চা রফতানি কমে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার কেজিতে নেমেছে।

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত ১ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার, যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ও জার্মানি ৬৭ লাখ কেজি ভারতীয় চা আমদানি করেছে। দেশগুলো গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর ভারত থেকে চা আমদানি বাড়িয়েছে।