অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফেরার জেরে জাপানে বেকারত্বের হার কমেছে। এপ্রিলে দেশটিতে বেকারত্বের হার দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশে। মহামারীর অভিঘাতে অচলাবস্থা শেষে পুনরুদ্ধার ঘটছে অর্থনীতি। সম্প্রতি এমনটাই উঠে এসেছে সরকার প্রকাশিত প্রতিবেদনে। খবর কিয়োদো।
সরকারি তথ্যমতে, মহামারীর আগে ২০১৯ সালের এপ্রিলে দেশটিতে চাকরিধারীর সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার। চলতি বছরে অতিক্রম করেছে মহামারীপূর্ব সংখ্যাটি। এপ্রিলে চাকরিজীবীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার। অর্থাৎ আরো অনেক মানুষ নতুন উদ্যমে কাজ করতে শুরু করেছেন। কোম্পানির দিকে আগ্রহী হয়ে ওঠার পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা। এপ্রিলে চাকরি লভ্যতার অনুপাত ছিল ১ দশমিক ৩২। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন চাকরিপ্রার্থীর বিপরীতে ১৩২টি চাকরি বিদ্যমান দেশটিতে। তবে মার্চের তুলনায় চাকরির নিয়োগ কমেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, একই সময়ে চাকরিপ্রার্থী কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।
খাত হিসেবে খাদ্য ও আবাসন খাতে চাকরির নিয়োগ বছরওয়ারি বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে নিয়োগ কমেছে যথাক্রমে ৯ দশমিক ৬ ও ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এপ্রিলে বেকারের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কম। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৩০ হাজার স্বেচ্ছায় তাদের চাকরি ত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে ৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। ডাইয়া ইনস্টিটিউট অব রিসার্চের গবেষক মেগুমি ওয়াদা দাবি করেছেন, ছুটির মৌসুমকে সামনে রেখে এপ্রিল ও মে মাসে বেড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাত। কিছু খাতে নিয়োগ কমে যাওয়ার কারণ মূলত বিদেশে চাহিদা কমে যাওয়া।
পুরুষেদের বেকারত্বের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী মাস অপেক্ষা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। একই সময়ে নারীদের বেকারত্বের হার ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ওয়াদা বলেন, ‘বেকারত্বের হার ধীরগতিতে হলেও কমে মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরেছে। সেসঙ্গে বেড়েছে অর্থনৈতিক কার্যক্রম। মে মাসের শুরুতে জাপান সরকার মহামারী ইস্যুতে শিথিল করে নেয় নিষেধাজ্ঞা। ফলে তিন বছর পর নতুন করে তৈরি হয় অর্থনীতি গতিশীল হওয়ার রাস্তা।’










