দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমাতে পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগসহ নানামুখী নীতিসহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও খেলাপি ঋণ না কমে উল্টো বেড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এটি ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাস শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ায়। সে সময় ব্যাংক খাতে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮০ কোটি টাকা, যার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা খেলাপির খাতায় ওঠে। তবে এরপর খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নীতিসহায়তা দেয়া হয়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে কিছুটা কমে আসে খেলাপি ঋণ।
প্রতি ত্রৈমাসিকে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক তথা ৩১ মার্চ দেশের ব্যাংক খাতে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা খেলাপির খাতায় ছিল। সে সময় বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপিতে ওঠে। গত জুন মাস শেষে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই খেলাপির তালিকায় উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া নীতিসহায়তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া ও এসব ঋণের সুদহার যোগ হওয়াকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, নীতিসহায়তা দেয়ার পর অনেক গ্রাহক ব্যাংকগুলোতে যোগাযোগ করে পুনঃতফসিল করার আবেদন করেছেন। কিন্তু এজন্য ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। অনেক গ্রাহক হয়তো টাকা জোগাড় করতে পারেননি, সেজন্য সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া খেলাপিকৃত এসব ঋণের সুদহারও যোগ হওয়ায় মোট খেলাপির পরিমাণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।










