বৈশ্বিক পাম অয়েলের ৮৫ শতাংশই উৎপাদন করে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। পণ্যটি রফতানিতে তাদের সবচেয়ে বড় বাজার ভারত। দেশটিতে পাম অয়েল সরবরাহের ক্ষেত্রে ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুমে আধিপত্য ছিল ইন্দোনেশিয়ার। কিন্তু গত বছর ভোজ্যতেল রফতানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় ইন্দোনেশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল আমদানিকারক দেশটি। এ সুযোগে ভারতের বাজারে শীর্ষে উঠে আসে মালয়েশিয়া। মৌসুমের প্রথম সাত মাস ধরে এ আধিপত্য ধরে রেখেছে দেশটি।

সলভেন্ট এক্সট্রাকর্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (এসইএ) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ নভেম্বর ২০২০-২১ বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। এ বছরের মে পর্যন্ত মৌসুমের প্রথম সাত মাসে মালয়েশিয়া ভারতে ২৪ লাখ ২০ হাজার টন অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩৮ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া ভারতে ২০ লাখ টন অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে, যা গত মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ কম। রফতানি হ্রাসের প্রধান কারণ অতিরিক্ত রফতানি শুল্ক।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, পাম অয়েলভিত্তিক বায়োডিজেল উৎপাদনে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার। দেশীয় বাজারে পাম অয়েলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ পরিকল্পনা নেয়া হয়। পরিকল্পনার তহবিল বাড়াতে গত বছরের ডিসেম্বরে পাম অয়েল রফতানি শুল্ক বাড়ায় দেশটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা পাঁচ মাস ধরে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি শুল্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

এসইএর নির্বাহী পরিচালক এমভি মেহতা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার অতিরিক্ত রফতানি শুল্কের কারণে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল উৎপাদকরা লাভবান হচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়া যে দামে রফতানি করছে, মালয়েশিয়া তার চেয়ে কম দামেই ভারতসহ বিশ্ববাজারে পাম অয়েল সরবরাহ করছে। এতে বাজারে তাদের হিস্যা বাড়ছে। 

তবে কুয়ালালামপুরভিত্তিক পণ্যবাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফার্ম ট্রেডের পরিচালক সন্দিপ সিং বলেন, সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া রফতানি শুল্ক কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ভারতের বাজারে মালয়েশিয়ার আধিপত্য কমে আসবে।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী মুল্যানি ইন্দ্রাবতী জানান, অপরিশোধিত পাম অয়েলের বর্তমান রফতানি শুল্ক টনপ্রতি ২৫৫ ডলার। পণ্যটির রফতানি শুল্ক ৮০ ডলার কমিয়ে টনপ্রতি ১৭৫ ডলারে নিয়ে আসা হবে। প্রতি টন পাম অয়েলের দাম ১ হাজার ডলারের গণ্ডি পার করলেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানান মন্ত্রী। এক্ষেত্রে ৭৫০ ডলার মূল্যের প্রতি টন পাম অয়েল রফতানিতে শুল্ক দিতে হবে ৫০ ডলার। এ মাসের শেষের দিকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার প্রতিনিধিরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে হ্রাসকৃত শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা এখনো বেঁধে দেয়া হয়নি।

রয়টার্স জানায়, ইন্দোনেশিয়ায় চলতি মাসেও প্রতি টন পাম অয়েল রফতানিতে ব্যবসায়ীদের ৪৩৮ ডলার শুল্ক দিতে হয়েছে। সে তুলনায় মালয়েশিয়ার শুল্ক ছিল টনপ্রতি মাত্র ৯০ ডলার। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য ছাড়ও দিচ্ছে দেশটি।

এদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসকে ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ইন্দোনেশিয়ায় সর্বোচ্চ পাম অয়েল উৎপাদন হবে। ফলে সরকারকে পাম অয়েল রফতানি বৃদ্ধিতে জোর দেয়ার আহ্বান জানান তারা। সূত্র: ইকোনমিক টাইমস ও এগ্রিকালচারডটকম