চলতি বছর অপরিশোধিত স্টেইনলেস স্টিলের (মরিচারোধক ইস্পাত) বৈশ্বিক উত্তোলন রেকর্ড সর্বোচ্চ বাড়বে। গত বছর করোনার প্রভাবে ধাতুটির উত্তোলন মন্দা পরিস্থিতিতে পড়ে। তবে এ বছর বিশ্ব অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে শুরু করায় স্টেইনলেস স্টিল খাতে আশার আলো দেখা দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলন ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। ধাতু বাজারের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মেপস এ পূর্বাভাস দিয়েছে।
ধাতু খাতকে শক্তিশালী করতে চীন সরকার বিভিন্ন প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে স্থানীয় চাহিদা পূরণে দেশটির ইস্পাত কারখানাগুলো যথাযথ সাড়া দিতে সক্ষম হচ্ছে। বলিষ্ঠ চাহিদার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ধাতুটির দামও ঊর্ধ্বমুখী। মূলত এসব বিষয়ই স্টেইনলেস স্টিলের বৈশ্বিক উত্তোলন বৃদ্ধিতে জ্বালানি জুগিয়েছে। মেপসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৫০ লাখ টন স্টেইনলেস স্টিল উত্তোলন করা হবে।
পূর্বাভাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর স্টেইনলেস স্টিল উত্তোলন গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বাড়াবে। তবে ২০১৯ সালের তুলনায় উত্তোলন কমবে। দেশটির প্রসিদ্ধ ইস্পাত উত্তোলক প্রতিষ্ঠান অ্যালিঘেনি টেকনোলজিস ইনকরপোরেটের (এটিআই) উত্তোলন কেন্দ্রগুলোয় শ্রমিক ধর্মঘট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতেও প্রতিষ্ঠানটি বাজারে টিকে থাকতে উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় উত্তোলনের পরিমাণ ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এ অঞ্চলে উত্তোলন জোরালো হতে শুরু করে। এ দুই মাসের হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই পূর্বাভাস দেয় মেপস। এতে বলা হয়, দেশটি এ বছর ৭০ লাখ টন স্টেইনলেস স্টিল উত্তোলন করবে।
বিশ্বের পশ্চিমা দেশগুলোয় দ্রুতগতিতে করোনাভাইরাসের টিকার প্রয়োগ বাড়ছে। দেশে দেশে লকডাউন পরিস্থিতি শিথিল হতে থাকায় স্টেইনলেস স্টিলের বাণ্যিজিক কার্যক্রম সচল হতে শুরু করেছে। ফলে এ খাতের ভোক্তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন।
চলতি বছর তাইওয়ানের স্টেইনলেস স্টিল উত্তোলন কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মেপস। দেশটি এ সময় উত্তোলন করবে ৮ লাখ ৯০ হাজার টন। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার উত্তোলন এ বছর আরো শক্তিশালী হবে। দেশটি এ সময় ৩০ লাখ টন স্টেইনলেস স্টিল উত্তোলন করবে, যা গত বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। তবে জাপান, ভারত ও কোরিয়ায় উত্তোলন কিছুটা কমবে।










