কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোর অফিসে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ৭৫৩। এর মধ্যে অতিরিক্ত কমিশনারের একটি ও যুগ্ম কমিশনারের দুটিসহ মোট ৫৩৫টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ মোট জনবলের দুই-তৃতীয়াংশই খালি। শূন্য পদ পূরণে তিন বছর আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি। লোকবল ঘাটতিতে রাজস্ব আয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, অর্জন হচ্ছে না লক্ষ্যমাত্রা। 

যশোর কমিশনারেট কার্যালয়ের অধীন ১০টি জেলা রয়েছে। এগুলো হলো যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী। জানা গেছে, অফিসটিতে মোট জনবলের পদ রয়েছে ৭৫৩টি। যার মধ্যে ৫৩৫টি পদই দীর্ঘদিন ধরে খালি অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত কমিশনারের দুটি পদের বিপরীতে একটি, যুগ্ম কমিশনারের দুটি ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার ২৮৭টি পদের বিপরীতে ১৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া উচ্চমান সহকারী ৪০টি পদের বিপরীতে সবক’টি, ক্যাশিয়ারের ১২টি পদের বিপরীতে ১২, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৩৯টি পদের বিপরীতে ৩৯, সাব-ইন্সপেক্টরের ২২টি পদের বিপরীতে সবক’টি, গাড়িচালকের ৩২টি পদের বিপরীতে ২৫, সিপাহি ১৯৪টি পদের বিপরীতে ১৫৭ এবং চতুর্থ শ্রেণীর ২৫ পদের বিপরীতে ১৩টি দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। 

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোর অফিসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে আয় করা হয়েছে ২১০ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার কোটি টাকা। সেখানে আয় করা হয়েছে ২ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। সেখানে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয় হয়েছে ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। 

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কার্যালয়ের যশোর বিভাগীয় অফিসের উপকমিশনার মো. মেহেবুব হক জানান, গত ২০২০-২৩ অর্থবছরে আমাদের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২২ কোটি ২০ লাখ, আয় হয়েছিল ৩৫০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। মূলত লোকবল ঘাটতিতে আমরা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছি না। স্মার্ট দেশ গড়তে হলে কাস্টমসকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে। তা নাহলে দেশ পিছিয়ে যাবে। 

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দা ভাব বিরাজ করছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে এসেছে। এ কারণে সরকারও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না। যশোরে লোকবল ঘাটতি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য সরকারকে চাহিদা অনুযায়ী লোকবল নিয়োগ করা প্রয়োজন।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোর অফিসের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সেলিম শেখ বলেন, ‘আমাদের অফিসে লোকবল ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে করে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আমাদের রাজস্ব আয় কমে গেছে। বিশেষ করে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ঘাটতি থাকায় মাঠ পর্যায়ে তদরকিতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ঠিকমতো তদারকি না হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও ঠিকমতো রাজস্ব দিচ্ছেন না।’