কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের উৎস হতে পারে নর্থ সি। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন প্রকল্প ও অতিরিক্ত সম্পদ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এ অঞ্চল দেশটির ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করতে সক্ষম হবে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
অফশোর এনার্জিস ইউকে (ওইইউকে) ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ যুক্তরাজ্যে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ও গ্যাস প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ কোটি ব্যারেল নিজেরা উত্তোলনের পথে রয়েছে। তবে উপকূলীয় জলভাগ থেকে আরো অনুসন্ধান করলে যুক্তরাজ্য উত্তোলন প্রায় ৭০০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতে ১৫ হাজার কোটি পাউন্ড অবদান রাখা সম্ভব।
২০২৫ সালের ‘বিজনেস আউটলুক’ প্রতিবেদন প্রকাশকালে ওইইউকের সিইও ডেভিড হোয়াইটহাউজ বলেন, ‘বিষয়টি তখনই সম্ভব হবে যদি যুক্তরাজ্য সরকার নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়।’
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নর্থ সি আরো উন্মুক্ত করতে ও বায়ুশক্তি থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্য তাদের জ্বালানি নীতিতে বড় ভুল করছে।’
লেবার পার্টি সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড নিট জিরো (ডিইএসএনজেড) জানায়, নতুন করে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানে কোনো লাইসেন্স দেবে না। কারণ ২০৫০ সালের মধ্যে নিট জিরো কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য অর্জনে চেষ্টা করছে দেশটি।
সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মুনাফার ওপর অতিরিক্ত কর বন্ধ করার পরিকল্পনাও জানিয়েছে। পাশাপাশি নর্থ সি এনার্জি সেক্টরের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
পরিকল্পনা তৈরি করতে চলতি মাসে ডিইএসএনজেড স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ট্রেড ইউনিয়ন, কর্মী ও পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। এর মাধ্যমে অঞ্চলটির অফশোর এনার্জি ব্যবস্থার ধাপে ধাপে রূপান্তর সম্ভব হবে ধারণা কর্তৃপক্ষের। দুই মাসের এ পরামর্শ প্রক্রিয়ায় নর্থ সির বিদ্যমান অবকাঠামো, প্রাকৃতিক সম্পদ ও দক্ষতা ব্যবহার করে নতুন প্রযুক্তি, যেমন হাইড্রোজেন, কার্বন ক্যাপচার ও সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারসংক্রান্ত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ডেভিড হোয়াইটহাউজ বলেন, ‘অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বেশির ভাগ বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলো থেকে আসতে পারে। তবে ৭০০ কোটি ব্যারেল উত্তোলনের লক্ষ্য পূরণের জন্য নতুন প্রকল্পের প্রয়োজন হবে।’
ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটির স্বাধীন পরামর্শকরা বলেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নিট জিরো লক্ষ্য অর্জন করতে হলে যুক্তরাজ্যকে উপযুক্ত অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। এর জন্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ও গ্যাস প্রয়োজন হবে।
ডেভিড হোয়াইটহাউজ বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাজ্য মাত্র ৪০০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপাদনের পথে রয়েছে। তবে সঠিক নীতিমালা তৈরি করা হলে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। তখন আমরা আরো ৩০০ কোটি ব্যারেল উত্তোলন করতে পারব, যা আমাদের মোট চাহিদার অর্ধেক পূরণ করবে। এ পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ১৫ হাজার কোটি পাউন্ড যুক্ত হবে।’
ওইইউকের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ম্যানেজার বেন ওয়ার্ড বলেন, ‘উত্তর সাগরের গ্যাস আমদানি করা গ্যাসের তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণ ঘটায়। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) তুলনায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গ্যাসের কার্বন নিঃসরণ মাত্র এক-চতুর্থাংশ।’










