ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ভারতে অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলন ও দেশটিতে লোকসভা নির্বাচনের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করা হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে হুইস্কির মতো পণ্যে কর ধার্যের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেলেও জটিল বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো কঠিন হবে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যবিষয়ক চুক্তি হতে পারে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও বাণিজ্যমন্ত্রী কেমি ব্যাডেনক দ্রুত সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।

দ্রুত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ভারত। তবে আলোচনা দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ব্রেক্সিটের পর ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য প্রশস্ত করতে চেয়েছে যুক্তরাজ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছিলেন, ব্রেক্সিটের পর সবচেয়ে বড় ঘটনা হবে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। কিন্তু অনেকদিন ধরে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়নি। বরিস জনসন ও লিজ ট্রাস আশ্বাস দিয়েছিলেন, ২০২২ সালের দিওয়ালির মধ্যে চুক্তি হবে। কিন্তু সে আলোচনায় মীমাংসার মুখ দেখেনি।

কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড করন বিলিমোরিয়া মনে করেন, ভারত এখনো যুক্তরাজ্যের বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদারের একটি। তার স্থান আরও ওপরে থাকার কথা। এখন পর্যন্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ। ভারত হুইস্কি ও গাড়ি থেকে কর প্রত্যাহার করে নেবে। যুক্তরাজ্য সরিয়ে দেবে টেক্সটাইল ও অন্যান্য ভারতীয় পণ্য থেকে কর।

ভারত স্কচ হুইস্কিতে শতভাগ কথা বলেছে। বিনিময়ে তারা যুক্তরাজ্য যেন ভারতীয় কর্মীদের কর ছাড় দেয়, সেটাই চায়। যদিও তার পরিমাণ নিয়ে মীমাংসা হয়নি। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারত নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য বাণিজ্য চুক্তি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন ছোট পরিসরের চুক্তি থেকে পরবর্তীকালে বৃহৎ চুক্তি করা যেতে পারে।

যুক্তরাজ্য চায় আগেই চুক্তি না করে স্বার্থ রক্ষায় ভারতকে চাপে রাখা। এদিকে কানাডাও সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নয়াদিল্লি সফরের কথা রয়েছে, তার ঠিক আগে এসে আলোচনা স্থগিত করা হলো। দেশটির সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন ‘বাণিজ্যবিষয়ক চুক্তি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। বোঝার জন্যই আলোচনাটি স্থগিত করা হয়েছে।’