‘ফ্রুটি চিয়ার্স তোরোরি’ নামের এ বিশেষ পানীয়গুলো শুধু দেশটির জনপ্রিয় রিটেল চেইন ‘সেভেন-ইলেভেন’-এর আউটলেটগুলোয় পাওয়া যাচ্ছে। স্টারবাকসের নিজস্ব কোনো শোরুম বা কফি হাউজেও এ পানীয়গুলো কেনা যাবে না। মূলত জাপানের বাজারে ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতেই এ দুই বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি বিশেষ ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে জাপানের কনভেনিয়েন্স স্টোর বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। দেশটির শীর্ষ তিন রিটেল চেইন—সেভেন-ইলেভেন, ফ্যামিলি মার্ট ও লসন একে অন্যকে ছাড়িয়ে যেতে প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। এ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সেভেন-ইলেভেন এবার স্টারবাকসের সঙ্গে এ এক্সক্লুসিভ পার্টনারশিপ বা একচেটিয়া চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন বাজারে তারা বাড়তি সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা।

নতুন এ সিরিজের আওতায় দুটি ভিন্ন ফ্লেভার বা স্বাদের পানীয় বাজারে ছাড়া হয়েছে। একটি হলো ‘স্ট্রবেরি বেরি বার্গামোট’ এবং অন্যটি ‘ম্যাঙ্গো প্যাশনফ্রুট’। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফল, ঘন দুধ ও চায়ের চমৎকার মিশ্রণে পানীয়গুলো তৈরি করা হয়েছে।

জাপানি অনোম্যাটোপিয়া বা শব্দানুকৃতি থেকে ‘তোরোরি’ শব্দটির উৎপত্তি। সাধারণত ঘন, মসৃণ ও ক্রিমি টেক্সচারের খাবারকে বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়। পানীয়টির স্বাদ ও ঘনত্বে এ বিশেষ বৈশিষ্ট্যকেই ক্রেতাদের সামনে মূল আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরছে স্টারবাকস। এর মধ্যে স্ট্রবেরি বেরি বার্গামোট ফ্লেভারে দুধের সঙ্গে বার্গামোট লেবুর সুবাস ও জুঁই ফুলের চায়ের এসেন্স বা সুগন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। স্বাদ আরো বাড়াতে এতে তাজা স্ট্রবেরি ও ব্ল্যাকবেরির রস মেশানো হয়েছে। অন্যদিকে ম্যাঙ্গো প্যাশনফ্রুট ফ্লেভারটিতে গ্রীষ্মকালীন ফলের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এতে আম ও প্যাশনফ্রুটের সঙ্গে দুধ ও লিকার চায়ের মিশ্রণ রয়েছে। তীব্র গরমে প্রতি চুমুকেই এটি ক্রেতাদের এক দারুণ সতেজ অনুভূতি দেবে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্টারবাকসের কর্মকর্তারা জানান, মূলত কর্মব্যস্ত মানুষের প্রতিদিনের জীবনের কথা মাথায় রেখেই সিরিজটি তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ ক্যাফে কাপের পরিবর্তে এটি সহজে বহনযোগ্য প্লাস্টিকের (পিইটি) বোতলে বাজারজাত করা হচ্ছে, যেন মানুষ যেকোনো স্থানে বসেই ক্যাফের স্বাদ উপভোগ করতে পারে। জাপানজুড়ে সেভেন-ইলেভেনের সব দোকানে সীমিত সময়ের জন্য এ পানীয়গুলো পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি বোতলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২১৪ জাপানি ইয়েন। খবর ও ছবি জাপান টুডে