সবুজ পাহাড়ের চূড়া, সাদা বালির সমুদ্রসৈকত ও স্বচ্ছ নীল পানিতে হরেক রকমের রঙিন মাছ। দেখে মনে হতে পারে যেন কাগজে আঁকা কোনো ছবির কথা বলা হচ্ছে। আদতে এটি হলো লর্ড হোয়ে দ্বীপের প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা। অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ব উপকূলে ৩৭২ মাইল দূরে অবস্থিত দ্বীপটিতে মাত্র ৪০০ মানুষের আবাস। এটি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে তাসমান সাগরে একটি অনিয়মিত অর্ধচন্দ্রাকার আগ্নেয়গিরির অবশিষ্টাংশ, যা অস্ট্রেলিয়ান রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসেরও অংশ। তবে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দ্বীপটি স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও সীমিতসংখ্যক পর্যটকের কারণে অনন্য। দ্বীপটি প্রতি বছর একজন পর্যটকের জন্য একটি ক্যাপ নির্ধারণ করেছে। যার অর্থ দাঁড়ায় প্রত্যেক পর্যটকের জন্য আলাদা করে একজন ট্যুর গাইড নিযুক্ত থাকবেন। ওই গাইড পর্যটককে এ জায়গার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে অবহিত করবেন। তবে লর্ড হোয়ে দ্বীপের মূল আকর্ষণের দিক হচ্ছে, এখানে স্থানীয় আর পর্যটকের সংখ্যা কখনো একসঙ্গে ৪০০ পার করেনি। কারণ এ দ্বীপে বসবাসকারীরা তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থাৎ বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী রক্ষায় সচেষ্ট। যেহেতু প্রতি পর্যটকের জন্য একজন করে গাইড পূর্বনির্ধারিত, তাই কোনোভাবেই মোট লোকসংখ্যা ৪০০ পার করা যাবে না। এ বিশেষত্বের জন্য ১৯৮২ সালে ইউনেস্কো দ্বীপটিকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এ দ্বীপের প্রায় ৮৫ শতাংশ গাছপালা ও বনাঞ্চলে পরিপূর্ণ এবং মাত্র ১৫ শতাংশ স্থানীয় বা পর্যটকদের আবাসন ব্যবস্থার জন্য আলাদাভাবে বরাদ্দ। এ ৮৫ শতাংশের মাঝে আবার ৭০ শতাংশ স্থায়ী বনাঞ্চল। এখানে মূলত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এজন্যই হয়তো দ্বীপটিকে ‘প্রাকৃতিক স্বর্গভূমি’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। লর্ড হোয়ের জীবনযাত্রা যেন একদমই কোনো প্রামাণ্যচিত্রের মতো। এখানকার ঘনবসতিপূর্ণ গাছপালা ও প্রাণী মোটামুটিভাবে দুর্লভ। প্রকৃতির সান্নিধ্য সাধারণ মানুষের কাছে এটিকে ছুটির গন্তব্য করে তুলেছে। এখানে সবাই সাঁতার, সাইকেল চালানোসহ নানা শারীরিক কসরতে বেশ পারদর্শী। খুব সহজে এখানে কেউ প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। এখানকার বেশির ভাগ পণ্যই আসে রিসাইকেল বা পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে। পুনঃব্যবহার করা সম্ভব হয় না— এমন বর্জ্য বাগানের সার হিসেবে শেষ পর্যন্ত কাজে লাগানো হয়। এখানকার প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে ফটো সোলার গ্রিড থেকে।
স্বর্গদ্বীপের স্বর্গীয় রূপ
সবুজ পাহাড়ের চূড়া, সাদা বালির সমুদ্রসৈকত ও স্বচ্ছ নীল পানিতে হরেক রকমের রঙিন মাছ।










