অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করবে ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় ইস্পাত প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্টিলএশিয়া। ২০২৯ সালের মধ্যে বছরে ৪৮ লাখ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য আগামী তিন বছরে নতুন কারখানা ও বৈদ্যুতিক আর্ক ফার্নেস (ইএএফ) স্থাপন করবে কোম্পানিটি। এতে দেশটির ইস্পাত খাতে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি স্থানীয় স্ক্র্যাপের ব্যবহারও বাড়বে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

বর্তমানে স্টিলএশিয়ার বছরে ২৫ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। পাঁচটি রোলিং মিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনা করে। নতুন সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় প্রতিটি নতুন মিলের সঙ্গে ইএএফ স্থাপন করা হবে। এসব চুল্লিতে ব্যবহার হবে ইস্পাতের স্ক্র্যাপ বা পুরনো ইস্পাত।

স্টিলএশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট (গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন অ্যান্ড কমার্শিয়াল) ভিকি মাথুর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ বিনিয়োগ ফিলিপাইনের ইস্পাত শিল্পের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনবে। এর মাধ্যমে দেশটির আমদানি করা বিলেটের (ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল) ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে দেশে উৎপন্ন ইস্পাতের স্ক্র্যাপ আরো বেশি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।’

সম্প্রসারণ পরিকল্পনাটি তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে। প্রথম ধাপে লেমেরি ওয়ার্কস চালু হবে। সেখানে নির্মাণ, পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে ব্যবহারের জন্য স্টিল বিমসহ বিভিন্ন কাঠামোগত ইস্পাত তৈরি করা হবে। কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা হবে পাঁচ লাখ টন। রোলিং মিলটি ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে পাঁচ লাখ টন সক্ষমতার ইএএফ চালু হবে একই বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর)।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালে ক্যান্ডেলিয়ারিয়া ওয়ার্কস চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। এর বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা হবে ১০ লাখ টন। এখানে বড় আকারের কাঠামোগত ইস্পাত তৈরি হবে এবং একটি ইএএফও থাকবে।

তৃতীয় ধাপে ২০২৯ সালে কনসেপসিয়ন মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বছরে ১০ লাখ টন উৎপাদনক্ষমতার এ কারখানায় পরিবেশবান্ধব ইস্পাতের তার, রড তৈরি করা হবে।

স্টিলএশিয়া জানায়, তারা এখনই ফ্ল্যাট স্টিল উৎপাদনে যাচ্ছে না।

প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ফিলিপাইনের দীর্ঘ ইস্পাত বা লং স্টিল খাতকে আরো শক্তিশালী করা।

মাথুর বলেন, ‘আগামী ৬-১২ মাসে ফিলিপাইনে লং স্টিলের চাহিদা ইতিবাচক থাকতে পারে। বেসরকারি নির্মাণকাজ, শিল্প বিনিয়োগ, সরকারি প্রকল্প এবং জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ এ চাহিদাকে সমর্থন করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি, ঋণের শর্ত, সুদহারসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।’

এদিকে ফিলিপাইন চলতি বছরের জানুয়ারি-জুনে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৭৫ টন লৌহ স্ক্র্যাপ রফতানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

নতুন ইএএফগুলো চালু হলে এসব স্ক্র্যাপ দেশের ভেতরেই বেশি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে বিলেট আমদানির প্রয়োজন কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা, জাহাজভাড়া ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাবও কমতে পারে।

স্টিলএশিয়া ইউরোপের বাজারেও সম্ভাবনা দেখছে। বিশেষ করে কম কার্বন নিঃসরণকারী ইস্পাতের চাহিদা বাড়ায় ইউরোপ আকর্ষণীয় বাজার হতে পারে। তবে সেখানে রফতানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যনীতি, কোটা, সনদ, পরিবহন ব্যয় ও পরিবেশগত বিধি মেনে চলার খরচ বিবেচনা করতে হবে।

স্টিলএশিয়া জানিয়েছে, তাদের বিলেটের প্রতি টনে কার্বন নিঃসরণ দশমিক ২৮ টন, যা ডিএনভি যাচাই করেছে। এছাড়া সেবুতে কম্পোস্টেলা ওয়ার্কসে আট মেগাওয়াট-পিক ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করা হচ্ছে। এটি কারখানাটির বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ পূরণ করতে পারবে।