বৈশ্বিক চাহিদায় চাঙ্গা ভাব ফিরছে এমন সম্ভাবনায় গত সোমবার মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম বেড়ে যায়। তবে একদিনের ব্যবধানেই পণ্যটির বাজার ফের মন্দায় পড়েছে। মূলত মালয়েশীয় পাম অয়েলের শীর্ষ ক্রেতা দেশ ভারত ক্রয় কমিয়ে আনায় পণ্যটির দামে ফের পতন দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ কার্যদিবসে প্রতি টন মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে গেছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।
বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে গতকাল কার্যদিবসের শুরুতে আগামী জুলাইয়ে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯৮ রিঙ্গিত (স্থানীয় মুদ্রা) বা ৪৫৯ ডলার ৭৩ সেন্ট, আগের দিনের তুলনায় যা ২২ রিঙ্গিত বা ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কম।
চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে দেশে দেশে লকডাউন শুরু হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য সংকুচিত করে আনা হয়। ফলে বছরের শুরুর দিকে মালয়েশীয় পাম অয়েলের আমদানি চাহিদা কমে যায়। চাহিদা কমায় পণ্যটির দামও কমে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অনেক দেশ সরকারি বিধি-নিষেধ শিথিল করে এনেছে। এর জের ধরে মালয়েশিয়া থেকে পণ্যটির রফতানিও ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে। চাহিদা বাড়ায় দামে ফের চাঙ্গা ভাব ফিরতে শুরু করেছে। গত সোমবার দেশটির বাজারে পণ্যটির দাম আগের দিনের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।
তবে একদিনের ব্যবধানে ফের মালয়েশীয় পাম অয়েলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা পড়েছে। মূলত পণ্যটির শীর্ষ ক্রেতা দেশ ভারত মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি করে এ রকম ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করেছে। মালয়েশিয়ার পরিবর্তে ভারত প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে শুল্কমুক্ত পাম অয়েলের আমদানি বাড়িয়েছে, যদিও এগুলো পণ্যটির প্রধান উৎপাদনকারী দেশ নয়। এতে মালয়েশীয় পাম অয়েলের বাজারে বাড়তি চাপ পড়েছে।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক এক পাম অয়েল ব্যবসায়ী বলেন, নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে সংস্থাগুলোকে পাম অয়েল আমদানিতে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই ভারত এ স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
এছাড়া মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের অন্যতম শীর্ষ বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পণ্যটির আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ২০১৯-২০ মৌসুমের (জুলাই-জুন) শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটি থেকে ইইউতে সব মিলিয়ে ৪৭ লাখ ৮০ হাজার টন পাম অয়েল রফতানি হয়েছে, আগের মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় যা ১৫ শতাংশ কম।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসে বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় দেশটি থেকে সামগ্রিকভাবে পণ্যটির রফতানি বাড়তে শুরু করেছে। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে (১ থেকে ১০ তারিখ) মালয়েশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির রফতানি ৭ দশমিক ৮ থেকে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। চাহিদা বাড়ায় এ সময় পণ্যটির দামও বাড়তে শুরু করেছিল।
এদিকে পাম অয়েলের সঙ্গে গতকাল সয়াবিন তেলেরও দাম কমতির দিকে ছিল। ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে গতকাল ভোজ্যতেলটির দাম আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৯৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) ভোজ্যতেলটির দাম আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছে।










