সমুদ্রসীমা থেকে মাছ ধরার নতুন পরিমাণ নির্ধারণে সম্মত হয়েছে জাপান, চীন ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় মৎস্য কমিশনের (এনপিএফসি) অন্যান্য সাত সদস্য দেশ। দেশগুলো সম্মিলিতভাবে সাউরি জাতীয় সামুদ্রিক মাছ আহরণের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর কিয়োদো এজেন্সি।
শুক্রবার উত্তর জাপানের পার্বত্য অঞ্চলের সাপোরোতে তিনদিনের বৈঠক শেষে মাছ ধরার নতুন পরিমাণ নির্ধারণবিষয়ক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যা দুই বছরের জন্য প্রযোজ্য। এর আগে ২০২১ সালে সদস্য দেশগুলো সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে মাছ ধরার নির্ধারিত কোটা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টনে সীমিত রাখা হয়। যদিও টোকিওর পক্ষ থেকে তখন ১ লাখ ৭০ হাজার টনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়া হয়, যা ছিল ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে কম।
তবে কোটা নির্ধারণের পরও সদস্য দেশগুলো—জাপান, কানাডা, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভানুয়াতুর পক্ষ থেকে সাউরি জাতীয় সামুদ্রিক মাছ ধরার পরিমাণ কমেনি বরং বেড়েছে।
জাপানের ফিশারিজ এজেন্সির মিওয়াকো তাকাসে শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা সামুদ্রিক সম্পদকে শক্তিশালী করার পক্ষে একটি পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছি। বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করে মাছ ধরার কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও তা যথেষ্ট নয়।’
২০২১ ও ২০২২ সালে এ অঞ্চলের নয় সদস্য দেশের নির্ধারিত সম্মিলিত কোটার মধ্যে উচ্চ সামুদ্রিক অঞ্চলে ১ লাখ ৯৮ হাজার টন এবং জাপান ও রাশিয়ার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) জন্য ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫০ টন বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে নতুন চুক্তির অধীনে এটি যথাক্রমে ২৬ শতাংশ কমিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টন এবং ২৪ শতাংশ কমিয়ে এক লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সদস্য দেশগুলো প্রথমে ২০১৯ সালে সাউরি মাছ ধরার কোটা চালু করতে সম্মত হন। ২০২১ সালে উচ্চ সমুদ্র অঞ্চল এবং জাপান-রাশিয়ার ইইজেডের জন্য সম্মিলিত কোটা ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২২ সালে একই কোটা প্রয়োগ করা হয়।
বার্ষিক বৈঠকটি গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত হয়।










