মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় গতকাল মার্কিন শেয়ারবাজার সূচকগুলো রেকর্ড উচ্চতা থেকে নেমে এসেছে। একই সময়ে তীব্রভাবে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। খবর এপি।
গতকাল এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে, যা সূচকটিকে সর্বশেষ সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নামিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ও ন্যাসডাক কম্পোজিট কমেছে যথাক্রমে ১ দশমিক ১ ও দশমিক ২ শতাংশ।
তবে সবচেয়ে বড় নড়াচড়া দেখা গেছে জ্বালানি তেলের বাজারে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ব্যারেল প্রতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১১৪ ডলার ৪৪ সেন্টে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তারা ইরানের হামলার শিকার হয়েছে—যা জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়।
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় পারস্য উপসাগরে আটকে আছে শত শত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৭০ ডলার ছিল, তা এখন অনেক বেড়ে গেছে।
ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার এখন পর্যন্ত বেশ স্থিতিশীল রয়েছে এবং একের পর এক রেকর্ড গড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে এখনো আশা রয়েছে যে বৈশ্বিক অর্থনীতি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়াতে পারবে। এদিকে কোম্পানিগুলোও শক্তিশালী মুনাফা দেখাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের দাম বাড়ার মূল চালিকা শক্তি।
চলতি মৌসুমে শুধু বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোই নয়, বরং বাজারের অধিকাংশ কোম্পানিই ভালো পারফরম্যান্স করছে। ব্যাংক অব আমেরিকার স্ট্র্যাটেজিস্ট সাভিতা সুব্রামানিয়ান জানিয়েছেন, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে গড় কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ হতে পারে।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে শেয়ারবাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের উত্থানে দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক ৫ দশমিক ১ এবং হংকংয়ের সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে ছুটির কারণে মূল ভূখণ্ড চীন এবং জাপানের বাজার বন্ধ ছিল।










