কানাডার অর্থনীতি চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে। এ সময়ে উত্তর আমেরিকার শিল্পোন্নত দেশটির সংকোচন ছিল গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ। সম্ভাব্য মন্দা কাটাতে এগিয়ে আসতে পারে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলাফল হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার স্থির রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স। 

ব্যাংক অব কানাডা দ্বিতীয় প্রান্তিকে বার্ষিক জিডিপি ১ দশমিক ৫ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিল। যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। জুনে জিডিপি মে মাসের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উপপ্রধান উত্তর আমেরিকান অর্থনীতিবিদ স্টিফেন ব্রাউন পরামর্শ দিয়েছেন, প্রবৃদ্ধির হারের কারণে কানাডার অর্থনীতি এরই মধ্যে আংশিক মন্দা ভাব দেখতে শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, ব্যাংক অব কানাডা আগামীতে বর্তমান সুদের হারই বজায় রাখবে। স্ট্যাটিসটিকস কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমার পাশাপাশি রফতানি ও নাগরিকদের প্রাত্যহিক খরচ কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে এ মন্দা দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি আরো জানায়, নতুন অবকাঠামো কম গড়ে ওঠায় এবং পুরনো অবকাঠামো সংস্কার কম হওয়ায় আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমেছে। গত জুনে কানাডায় কয়েকটি অঞ্চলে দাবানল সৃষ্টি হওয়ায় তা দেশটির খনি, পাথরশিল্প ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে। 

সম্প্রতি প্রকাশিত জিডিপি প্রতিবেদনটি বুধবার ব্যাংক অব কানাডার আসন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রতিবেদন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রয়টার্স পরিচালিত ৩৪ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে করা জরিপে বেশির ভাগই মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাতারাতি সুদহার পরিবর্তন করবে না। এদিকে কানাডিয়ান ডলারও মার্কিন ডলারের বিপরীতে দশমিক ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে। এছাড়া কানাডিয়ান ডলার অন্য প্রধান জি ১০ দেশগুলোর মুদ্রার বিপরীতেও পতন দেখেছে। 

জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার বেঞ্চমার্ক রেট ৫ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূল্যস্ফীতি গত বছর ৮ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চার গুণ বেশি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জোর দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক তথ্য প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে। জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৩ শতাংশের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে চাকরি হারানোর কারণে বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।