টেসলার প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেছেন ইলোন মাস্ক। টুইটার অধিগ্রহণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মধ্যেই মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বিক্রি করেছেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ আগে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে মাইক্রোব্লগিং সাইটটি কিনে নিয়েছেন তিনি। প্রধান নির্বাহীর শেয়ার বিক্রির খবরে টেসলার শেয়ারদরে পতন দেখা দেয়। এতে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর নিট সম্পদ ২০০ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলারের নিচে নেমে গিয়েছে। খবর রয়টার্স।

মার্কিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক ফাইলিংয়ে মার্কিন ধনকুবের জানিয়েছেন, তিনি টেসলার আরো ১ কোটি ৯৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করেছেন। অর্থের হিসাবে শেয়ারগুলোর মূল্য প্রায় ৩৯৫ কোটি ডলার।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ শেয়ার বিক্রির পর টেসলায় ইলোন মাস্কের অংশীদারত্ব প্রায় ১৪ শতাংশে নেমেছে। তবে মাস্কের শেয়ার বিক্রির উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়নি। যদিও অনেক আগে থেকেই বিশ্লেষকরা বলে আসছিলেন যে টুইটার চুক্তিতে অর্থায়নের জন্য ইলোন মাস্ক টেসলার শেয়ার বিক্রি করতে পারেন। এর আগে বিশ্বের শীর্ষ এ ধনকুবের জানিয়েছিলেন, তাকে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার অধিগ্রহণে বাধ্য করা হলে তার অর্থের প্রয়োজন হবে।

মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রকাশিত ফাইলিংয়ে দেখা গিয়েছে, গত শুক্র ও মঙ্গলবার বিশ্বের শীর্ষ এ ধনী শেয়ারগুলো বিক্রি করে দেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার সংস্থাটির শেয়ার বিক্রি করেছেন। একের পর এক শেয়ার বিক্রি করায় টেসলার শেয়ারদরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। তাছাড়া ইলোন মাস্ক টুইটার কেনার ঘোষণার পর থেকেই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীরা শঙ্কায় রয়েছেন। টুইটারে বেশি সময় দিলে তিনি বিশ্বের শীর্ষ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দিকে খুব বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এর আগে গত এপ্রিলে টেসলার শেয়ার বিক্রির কথা জানিয়েছিলেন মাস্ক। পরে আগস্টে আরো ৬৯০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেন তিনি। সব মিলিয়ে এপ্রিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত টেসলার বাজারমূল্য প্রায় অর্ধেক এবং প্রধান নির্বাহীর সম্পদ ৭ হাজার কোটি ডলার কমে গিয়েছে। ফোর্বস অনুসারে, বর্তমানে ইলোন মাস্কের নিট সম্পদ কমে ১৯ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া টেসলার বাজারমূল্য নেমেছে ৬২ হাজার ২০০ কোটি ডলারে।

ইলোন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি কেনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছিলেন। স্প্যাম ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্যসংক্রান্ত জটিলতার জেরে তিনি টুইটার অধিগ্রহণ স্থগিতের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টুইটার মামলা করলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তিনিও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। তবে সব বিরোধের অবসান ঘটিয়ে গত মাসের শেষ দিকে টুইটার অধিগ্রহণ করেন তিনি।

আবার অধিগ্রহণের পর কর্মী ছাঁটাই নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন তিনি। প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেয়ার পর টুইটারের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেন ইলোন মাস্ক। মালিকানা বুঝে নেয়ার পর প্রথম ছাঁটাই করেন টুইটারের তত্কালীন প্রধান নির্বাহী পরাগ আগারওয়ালকে। পরে সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন এ ধনকুবের।