২০২২ সালে বিদেশ থেকে ৯ হাজার কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে ভারত। রেমিট্যান্স উৎস হিসেবে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাম। এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় অর্থ মন্ত্রণালয়। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতের মোট রেমিট্যান্স রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ভারতের অর্থবছর শুরু হয় ১ এপ্রিল এবং শেষ ৩১ মার্চ। যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভারতের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস। মোট রেমিট্যান্সের ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে দেশটি থেকে। ১৮ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হিস্যা নিয়ে যুক্তরাজ্য তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থান আগলে রাখা সিঙ্গাপুরের হিস্যা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
আরব বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব। ভারতে আসা মোট রেমিট্যান্সের ৫ দশমিক ১ শতাংশের উৎস ছিল সৌদি আরব। যেখানে কুয়েত, ওমান ও কাতারের হিস্যা ছিল যথাক্রমে ২ দশমিক ৪, ১ দশমিক ৬ ও ১ দশমিক ৫ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হয়ে কাজ করে ভারতের জন্য। হাজারো ভারতীয় বসবাস করে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোয়। তারাই পরবর্তী সময়ে দেশে আত্মীয়-স্বজনের কাছে অর্থ পাঠায়। এ অর্থই দেশটিকে এশিয়ার তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশে রূপ দিয়েছে।
গত সপ্তাহে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে নতুন মুদ্রানীতি নিয়ে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য গ্রহণ করা হয় নীতিমালা। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের পর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুসারে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে দিরহাম ও রুপির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে দুই দেশেই বিনিয়োগ ও রেমিট্যান্স বাড়বে। এমনটাই মনে করে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে দ্রুত বিনিময় পদ্ধতি নিয়ে। অর্থ পাঠানোর পদ্ধতিকেও আরো সহজ করা হবে। গত বছর ভারত ও আরব আমিরাত অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য কাজ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের বড় অংশই দখল করে রেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। ভারত ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স আনা অন্য দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নামও রয়েছে। ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স আগমন দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক রেমিট্যান্স বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। অভিবাসীদের বেতন বৃদ্ধি ও মহামারী পরবর্তী সময়ে নতুন করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু হওয়ায় বাড়বে রেমিট্যান্সের প্রবাহ। গত অর্থবছরে ভারত ছিল রেমিট্যান্স গ্রহণে শীর্ষে। পরবর্তী স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মেক্সিকো, চীন, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান। রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে ছিল ব্যাংক, পোস্ট অফিস ও অন্যান্য লেনদেন অপারেটর।










