আরব বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সৌদি আরবে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেশি। ফোর্বসের ২০২৫ সালের বিলিয়নেয়ার তালিকায় সৌদি আরবের ১৫ জন অতিধনীর নাম স্থান পেয়েছে, যা ওই অঞ্চলের সধ্যে সর্বোচ্চ। খবর আরব নিউজ।
ফোর্বস ওয়ার্ল্ডের বিলিয়নেয়ার র্যাংকিং অনুসারে, সৌদি ধনীদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার, যা সব আরব বিলিয়নেয়ারের সম্মিলিত সম্পদের ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আরব দেশগুলোর বিলিয়নেয়ার র্যাংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন সৌদি নাগরিক প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে এবার আরব বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়ে ৩৮-এ দাঁড়িয়েছে। যাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১২ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার, যা গত বছরের মোট ৫ হাজার ৩৭০ কোটি ডলারের দ্বিগুণেরও বেশি। বিশ্বব্যাপী প্রথমবারের মতো বিলিয়নেয়ার সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এ বছর মোট বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ হাজার ২৮ জনে। গত বছরের চেয়ে এবার ধনীর সংখ্যা বেড়েছে ২৪৭। তাদের মোট সম্পদের পরিমাণও ১৬ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ লাখ কোটি ডলার বেশি। তবে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৯০২ জন। এর পরই রয়েছে চীন ও ভারত।
ফোর্বসের সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সম্পাদক চেজ পিটারসন-উইথর্নের মতে, অনেকের আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি সত্ত্বেও এটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের জন্য আরেকটি রেকর্ড ভঙ্গকারী বছর। ইলোন মাস্ক থেকে হাওয়ার্ড লুটনিক এবং অন্য বিলিয়নেয়াররা মার্কিন সরকার গ্রহণ করার পর তারা আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছেন।
কভিড-১৯ মহামারীর পর সৌদি এক্সচেঞ্জে প্রাথমিক পাবলিক অফার বৃদ্ধির ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা ও উন্নতির দেখা মিলেছে। ফলে তালিকায় উঠে এসেছেন ১৪ জন নতুন বিলিয়নেয়ার। অন্য বিশিষ্ট সৌদি ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা খাতের ধনকুবের সুলাইমান আল-হাবিব, যার সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার। ব্যবসায়ী নেতা এমাদ আল-মুহাইদিব ও এসাম আল-মুহাইদিবের সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ৩৮০ কোটি ডলার ও ৩৬০ কোটি ডলার।
এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচজন বিলিয়নেয়ারের মোট সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার। দেশটির বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে রয়েছেন রিয়েল এস্টেট টাইকুন হুসেন সাজওয়ানি, হুসেন বিনঘাটি আলজবোরি ও হুসেন মোহাম্মদ আলাববার। মিসরেও পাঁচজন বিলিয়নেয়ার রয়েছেন, যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৬০ কোটি ডলার।
আরব বিশ্বের অতিধনী ব্যক্তিরা রিয়েল এস্টেট, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিকম ও বিনিয়োগের মতো খাতগুলোয় তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন। এ বছরের র্যাংকিংয়ে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাবের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। তাদের অর্থনীতি শুধু দেশের ভেতরে নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। অন্য আরব দেশগুলোর তুলনায় সৌদি আরব বেশি উন্নতি করেছে।
এ বছরের অতিধনীদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ইলোন মাস্ক। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৪ হাজার ২০০ কোটি, যা বৈদ্যুতিক যানবাহন, মহাকাশ অনুসন্ধান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় উদ্যোগের কারণেই সম্ভব হয়েছে। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ ২১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের মালিক আর অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ২১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। সম্পদের উচ্চস্তরে আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন প্রযুক্তি জায়ান্টরা।










