বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল জ্বালানি তেলের বাজার। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর উত্তোলনের পরিমাণ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তে এ সময় জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বাড়ে। তবে ওপেক প্লাসের বাইরের দেশগুলোর উত্তোলন ও সরবরাহের পরিমাণ বাড়ায় পণ্যটির দামে ভারসাম্য আসে। অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভসহ (ফেড) অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মুদ্রানীতি কঠোর করেছে, বাড়ানো হয়েছে সুদহার। এতে ‘সেফ হ্যাভেন’ খ্যাত স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদা বেড়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে।

করোনা-পরবর্তী সময়ে সংকটকালীন পরিস্থিতি পার করছে বিশ্ব অর্থনীতি। গত বছরও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্বজুড়ে শীর্ষ জ্বালানি তেল সরবরাহকারীদের উত্তোলনের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগে ছিল। এছাড়া অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি সীমিত ছিল। এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ সুদহার ঘোষণা করে ফেডসহ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কয়েক বছর উচ্চ সুদহার ধরে রেখেছে তারা। সম্প্রতি মূল্যস্ফীতির পরিমাণ কমে আসায় চলতি বছর সুদহার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রেখেছে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল

চলতি বছরের জুনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম জানুয়ারির তুলনায় বেড়েছে। জানুয়ারিতে পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলার ৫৯ সেন্ট। জুনে তা বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ৫৬ সেন্টে পৌঁছায়।

স্বর্ণ

বছরের প্রথমার্ধে স্বর্ণের বাজারদর ছিল ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ছিল আউন্সপ্রতি ২ হাজার ২৩ ডলার ৬৯ সেন্ট। জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩২ ডলার শূন্য ৯ সেন্টে

এলএনজি

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জানুয়ারির তুলনায় জুনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম কমেছে। জানুয়ারিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য ছিল ১৯ ডলার ৪৩ সেন্ট। জুনে তা কমে প্রতি এমএমবিটিইউতে ১২ ডলার ৬০ সেন্টে নেমেছে।

চাল

চলতি বছরের শুরুতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত ভারতীয় চালের মূল্য ছিল টনপ্রতি ৫৩৩-৫৪২ ডলার। জুনে তা বেড়ে টনপ্রতি ৫৪৪-৫৫২ ডলারে পোঁছায়। এ সময় চাহিদা বৃদ্ধি ও নতুন মৌসুমের জন্য ভারত সরকার ধান সংগ্রহের মূল্য বাড়িয়ে দেয়ায় চালের দাম বেড়েছে।

ভুট্টা

জানুয়ারিতে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) ভুট্টার বুশেলপ্রতি মূল্য ছিল ৪ ডলার ৪৫ সেন্ট। জুনে তা কিছুটা কমে বুশেলপ্রতি ৪ ডলার ৪১ সেন্টে নেমে যায়।

পাম অয়েল

চলতি বছরের শুরুতে বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের টনপ্রতি মূল্য ছিল ৮১১ ডলার ৩৪ সেন্ট। জুনে তা বেড়ে ৮৩৪ ডলার ৫৪ সেন্টে পৌঁছায়।