চলতি বছরের শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে ইউরিয়া সারের দামে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা পণ্যটির মূল্য হ্রাসের পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন দেশে নেয়া সরকারি বিধিনিষেধের জেরে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আর্থিক ও শিল্প খাতগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার প্রাক-ক্রয়াদেশ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। চাহিদা কমায় কমতে শুরু করেছে পণ্যটির দাম। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে ইউরিয়ার দাম রেকর্ড কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর আইসিআইএস।
প্রতি সপ্তাহেই বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ইউরিয়ার দাম ক্রমশ কমছে। বাল্টিক ও কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে সর্বশেষ সপ্তাহে ফ্রি অব বোর্ড চুক্তিতে প্রতি টন ইউরিয়ার গড় দাম দাঁড়িয়েছে ২০০ ডলার, এ বছরের মধ্যে যা পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম।
এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইউরিয়ার দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পণ্যটির অন্যমত শীর্ষ বাজার বাংলাদেশ আমদানি বিলম্বিত করায় এক্ষেত্রে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। সর্বশেষ সপ্তাহে এ অঞ্চলে ফ্রি অব বোর্ড চুক্তিতে প্রতি টন ইউরিয়ার দাম দাঁড়িয়েছে ২২০ ডলার। আড়াই বছরের মধ্যে এটাই পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম। ইউরোপে পণ্যটির দাম কমার পেছনে কেবল চাহিদা হ্রাসই যথেষ্ট নয়, বাজারে উদ্বৃত্ত সরবরাহও এর পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সরবরাহকারী একজন ব্যবসায়ী বলেন, ইউরিয়ার দাম ক্রমশ কমছেই। তবে দাম কমতে থাকলে অনেকে পণ্যটিকে সস্তা ভেবে ক্রয় বাড়িয়ে
দিতে পারে। এটি পরবর্তী সমেয় পণ্যটির দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব রাখতে পারে। তবে বড় বড় কোম্পানি এ ধরনের সুযোগ নিলেও এ পরিস্থিতি ছোট কোম্পানিগুলো এতটা ঝুঁকি নিতে পারবে না বলে মনে করনে তিনি।
তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ বর্তমানে ঘরে বন্দি রয়েছে। দেশে দেশে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সীমিত করে আনা হয়েছে। ফলে সারের বাজারে এমন অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে, যা আগে দেখা যায়নি। পণ্যটির চাহিদা অপ্রত্যাশিতভাবে কমে গেছে। তবে লকডাউন সরিয়ে নেয়া হলে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে পণ্যটির চাহিদা ফের বাড়তে শুরু করতে পারে।










