গত বছর দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের কম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করে ইরান। এটি ৪০ বছরের সর্বনিম্ন উত্তোলন। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ কয়েকটি কারণে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাধাগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতিকে ধস এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিতে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অন্যতম।

ইরানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বৃহৎ পরিমাণ মজুদ রয়েছে। গত বছরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের মোট জ্বালানি তেল মজুদের ২৫ শতাংশই ছিল ইরানে। এছাড়া বৈশ্বিক মজুদে দেশটির হিস্যা ছিল ১২ শতাংশ।

ইরান জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের সদস্য হলেও দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওপেক প্লাস ইরানকে জ্বালানি তেল উত্তোলন-সংক্রান্ত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি।

২০১৮ সালের মে মাসে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি ও উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকেই দেশটির উত্তোলন ও রফতানি কমতে শুরু করে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নামে-বেনামে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করে ইরান। গত বছর দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির পরিমাণ গড়ে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল। রফতানির এসব জ্বালানি তেলের অর্ধেকেরও বেশি চীন ক্রয় করে।