সমুদ্রপথে চীনের আকরিক লোহা আমদানি বেড়েছে। দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদনের প্রধান এ উপকরণের চাহিদা বেশি থাকায় দাম ঊর্ধ্বমুখী। এ পরিস্থিতিতে আমদানি বাড়ায় খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এতে ধাতুটির দাম কমবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। খবর রয়টার্স।
মে মাসে চীনের সমুদ্রবন্দরে ৮ কোটি ৯৯ লাখ টন আকরিক লোহা খালাস করা হয়। জ্বালানি পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভের প্রাথমিক হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে চূড়ান্ত হিসাবে আমদানির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রেফিনিটিভ জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলের তুলনায় আমদানি কিছুটা বেড়েছে। ওই মাসে সমুদ্রপথে আমদানি করা হয়েছিল ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার টন আকরিক লোহা।
সমুদ্রপথে বৈশ্বিক সরবরাহের ৭০ শতাংশ আকরিক লোহাই ক্রয় করে চীন। দেশটিতে সবচেয়ে বেশি আকরিক লোহা সরবরাহ করে অস্ট্রেলিয়া। তবে করোনাকালে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটলে ব্রাজিল চীনে রফতানি বৃদ্ধি করে।
রেফিনিটিভের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া মে মাসে চীনে ৭ কোটি ৫৭ লাখ ৮০ হাজার টন আকরিক লোহা রফতানি করে। এপ্রিলে রফতানির পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার টন। অন্যদিকে ব্রাজিল মে মাসে চীনে ২ কোটি ৯১ লাখ টন আকরিক লোহা রফতানি করে। এপ্রিলে রফতানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টন।
বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশ চীন। করোনা মহামারীর প্রভাব কাটতে শুরু করায় দেশটির অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরছে। দেশটির সরকার ধাতু খাতকে শক্তিশালী করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে চীনে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে আকারিক লোহার চাহিদা। মে মাসেও ক্রমবর্ধমান চাহিদার ধারা অব্যাহত ছিল।
এদিকে আকাশচুম্বী চাহিদার কারণে ধাতুটির দাম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঊর্ধ্বমুখী দামের লাগাম টেনে ধরতে বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে আকরিক লোহার বাজারদর।
নীতিনির্ধারকদের নেয়া উদ্যোগ প্রাথমিকভাবে সফলতার মুখ দেখলেও মে মাসে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ১২ মে স্পট মার্কেটে আকরিক লোহার দাম সর্বকালের শীর্ষে উঠে আসে। এ সময় ধাতুটির দাম টনপ্রতি ২৩৫ ডলার ৫৫ সেন্টে উন্নীত হয়। তবে মাসের শেষ নাগাদ দাম কমতে থাকায় খাতসংশ্লিষ্টদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। আমদানি বৃদ্ধি বাজারকে আরো স্থিতিশীল করবে বলে মনে করছেন তারা।










