অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে বর্তমানে রেকর্ড নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। জ্বালানি পণ্যটির দামে চাঙ্গা ভাব ফেরাতে বসে নেই খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে খুব শিগগিরই পণ্যটির দাম বাড়ার তেমন সম্ভাবনা দেখছেন না বাজার বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক কোম্পানি গোল্ডম্যান স্যাকস প্রত্যাশা করছে, ২০২১ সালে পণ্যটির দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। খবর রয়টার্স।

গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ৫৫ ডলার ৬৩ সেন্টে উন্নীত হতে পারে। রেকর্ড পতনের আগে চলতি বছরের প্রথম দিকে পণ্যটির ব্যারেল ছিল ৫২ ডলার ৫০ সেন্ট। অন্যদিকে আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে ৫১ ডলার ৩৩ সেন্টে উন্নীত হতে পারে। চলতি বছরের শুরুর দিকে পণ্যটির দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৪৮ ডলার ৫০ সেন্ট।

প্রতিষ্ঠানটির এক নোটে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের জেরে জ্বালানি তেল উত্তোলন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পণ্যটির বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে ওপেক ও নন ওপেক দেশগুলোর রেকর্ড উত্তোলন হ্রাস চুক্তিটি চলতি মাস থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে পণ্যটির বাজারের বর্তমান উদ্বৃত্ত সরবরাহ অনেকটাই কেটে যাবে। এদিকে পরের বছর নাগাদ মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি ফিরতে পারে, যা জ্বালানি তেলের চাহিদায় চাঙ্গা ভাব ফেরাতে সহায়তা করতে পারে।

মহামারীর জেরে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক গড়ে তিন কোটি ব্যারেল কমে গেছে। চাহিদার এমন অপ্রত্যাশিত পতনে এপ্রিলে পণ্যটির দাম কমে শূন্য ডলারে নেমে গিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওপেক ও এর মিত্র দেশগুলো বাজার ভারসাম্য ফেরাতে চলতি ও আগামী মাসে পণ্যটির উত্তোলন দৈনিক গড়ে ৯৭ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনে।