বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিল। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রেও শীর্ষস্থানে দেশটি। কিন্তু করোনার ধাক্কা ও ভয়াবহ খরার কারণে চিনি উৎপাদন ও রফতানিতে পিছিয়ে পড়ছে দেশটি। এ সুযোগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে ভারত। মহামারীর ভয়াবহ প্রভাব সত্ত্বেও দেশটির চিনি উৎপাদন ও রফতানি বাড়ছে। অন্যান্য পণ্যের তুলনায় চিনি রফতানিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানিকারক দেশটি।

অল ইন্ডিয়া সুগার ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসটিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চিনির ২০২০-২১ বিপণন মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমে রফতানির জন্য বছরের প্রথম মাসে ভারতের খাদ্য মন্ত্রণালয় সব মিলিয়ে ৬০ লাখ টন চিনির কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটির চিনিকলগুলো বিশ্ববাজারে ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি সরবরাহের চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টন সরবরাহ করা হয়েছে। কোটার আওতায় আরো দেড় লাখ টন চিনি রফতানি করা যাবে।

এআইএসটিএ জানায়, ভারতের রফতানিযোগ্য চিনির সবচেয়ে বড় বাজার ইন্দোনেশিয়া। ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুন পর্যন্ত রফতানীকৃত ৪২ লাখ ৫০ হাজার টন চিনির মধ্যে ১৪ লাখ টন ইন্দোনেশিয়ায় সরবরাহ করা হয়েছে। আফগানিস্তানে রফতানি করা হয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার ৯০৫ টন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৭ ও শ্রীলংকায় ৩ লাখ ২৪ হাজার ১১৩ টন চিনি রফতানি করা হয়। পাশাপাশি ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬৫ টন চিনি রফতানির জন্য জাহাজীকরণ প্রক্রিয়া চলছে। বাকি ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬২ টনের মধ্যে কিছু চিনি গন্তব্যের উদ্দেশে বন্দর ছেড়েছে। কিছু বন্দরভিত্তিক পরিশোধকদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।

এআইএসটিএর চেয়ারম্যান প্রফুল ভাইথালানি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, জুনে মার্কিন সরকার ইরানের ওপর থেকে জ্বালানি তেল খাতসহ অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে দেশটিতে চিনি রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত বছরও দেশটিতে সর্বোচ্চ পরিমাণ চিনি রফতানি করেছিল ভারত।

তিনি আরো বলেন, মহারাষ্ট্র ভারতের চিনি উৎপাদনশীল রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাসভিত্তিক নির্ধারিত কোটার অনুপাতে স্থানীয় বাজারে চিনি বিক্রিতে ব্যর্থ হয়েছে এ রাজ্যের চিনিকলগুলো। ফলে মৌসুমের শেষ নাগাদ ২০ লাখ টনেরও বেশি অতিরিক্ত চিনির মজুদ থাকবে।

এআইএসটিএ এক নোটে জানায়, এরই মধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। চিনি জলগ্রাহী পণ্য হওয়ায় এটি দ্রুতই আর্দ্র হয়ে গলে যায়। ফলে বন্দরে যেসব চিনি পৌঁছেছে অথবা যেসব চিনি মজুদ করে রাখা হয়েছে, তা জরুরিভিত্তিতে খালাস করা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, চিনি রফতানিতে ভারত বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে চায়। এ লক্ষ্যে রফতানি বৃদ্ধি ও গুণগত মান বজায় রাখাসহ সব ধরনের পদক্ষেপ রয়েছে ভারতের। এরই মধ্যে দেশটির হাজিরা বন্দর ট্রাস্ট পণ্যবাহী জাহাজ নোঙরের ক্ষেত্রে চিনিকে প্রাধান্য দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যান্য বন্দরের ক্ষেত্রেও এ নির্দেশনা জারি ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে এআইএসটিএ চিনি রফতানির জন্য প্রসিদ্ধ বন্দরগুলোতে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে।

ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (ইসমা) তথ্য বলছে, এ মৌসুমের প্রথম নয় মাসে (১ অক্টোবর-১৫ জুন) চিনি উৎপাদন বেড়েছে ৩৫ লাখ ৫৪ হাজার টন। এ সময় ভারতে ৩ কোটি ৬ লাখ ৬৫ হাজার টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ।