ই-সিগারেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব নাকচ করেছে ভারত সরকার। এতে বিশ্বের বৃহত্তম তামাক কোম্পানি ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনালের দীর্ঘদিনের দেনদরবার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ভারত ২০১৯ সালে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করে, যার মধ্যে হিটেড টোব্যাকো পণ্যও রয়েছে। ‘হিট-নট-বার্ন’ পণ্যে তামাক পোড়ানোর বদলে গরম করে বাষ্প তৈরি করা হয়।
বছরে ১০০ বিলিয়নের বেশি সিগারেট বিক্রি হয় ভারতে, যা বিক্রির পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম সিগারেট বাজার। তামাকজনিত কারণে দেশটিতে বছরে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সরকার এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সংশোধন বা শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করছে না। ভারত প্রমাণভিত্তিক তামাক নিয়ন্ত্রণ ও ধূমপান ত্যাগে উৎসাহমূলক পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া ই-সিগারেট-সংক্রান্ত আইনে হিট-নট-বার্ন ডিভাইসও স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং এ অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
২০২১-২৫ সালের মধ্যে কোম্পানির গোপন চিঠিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ফিলিপ মরিস ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও সংসদীয় কমিটির সদস্যদের কাছে ব্যক্তি পর্যায়ে ও নানাভাবে দেনদরবার করেছে।
এছাড়া জানুয়ারিতে দাভোস সম্মেলনে ভারতের একাধিক রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোম্পানির নির্বাহীরা বৈঠক করেছেন। লিংকডইনে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তারা আইকোসের মতো পণ্যের মাধ্যমে তামাক খাতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ফিলিপ মরিসের প্রধান নির্বাহী ইয়াচেক ওলচাক জানিয়েছেন, ভারতে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। কারণ হিটেড টোব্যাকো ও ভেপের মতো বিকল্প পণ্য বাজারে নিষিদ্ধ রেখে সিগারেটকে অনুমতি দেয়া যৌক্তিক মনে করেন না তিনি।










