গত দুই বছর খরার মতো শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে থাইল্যান্ডে চিনি উৎপাদনে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি আসেনি। তবে এ বছর আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। ফলে আখের ফলন ভালো হয়েছে। এসব আখ থেকে চিনি উৎপাদন তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। খবর ব্যাংকক পোস্ট।

চিনি উৎপাদনে থাইল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। চলতি মাড়াই মৌসুম শেষে দেশটিতে চিনি উৎপাদন এক কোটি টনে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে থাই সুগার মিলারস করপোরেশন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর দেশটিতে আখ উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত থাই মিলগুলো ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টন আখ মাড়াইয়ের মাধ্যমে ৯৬ লাখ টন চিনি উৎপাদন করেছে।

চলতি মৌসুমে আখ উৎপাদন নয় কোটি টনে পৌঁছার প্রত্যাশা করছে সুগার মিলারস করপোরেশন। আগের মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন ৩৫ শতাংশ বাড়বে। ওই মৌসুমে থাইল্যান্ডে ৬ কোটি ৬৭ লাখ টন আখ উৎপাদন হয়েছিল।

মিলার করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রীভুথি শ্যামপাকাডে জানান, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটি মোট উৎপাদিত চিনির ৭০ শতাংশই রফতানি করবে। বাকিটুকু স্থানীয় চাহিদা পূরণের জন্য ব্যবহার হবে।

করপোরেশন মনে করছে, আখ ও চিনি উৎপাদন ২০২২-২৩ মৌসুমে আরো বাড়বে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উৎপাদন ও রফতানি পরিস্থিতি কিছুটা জটিলতার মধ্যে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন শ্রীভুথি। এর আগে সংস্থাটি আসন্ন মৌসুমের জন্য ১০ কোটি টন আখ ও ১ কোটি ৩০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছিল।

শ্রীভুথি বলেন, সহজভাবে দেখলে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লেই দেশে চিনি উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি এতটাও সহজ নয়। চিনি উৎপাদন ব্যয়, বিশেষ করে জ্বালানি তেল, সার ও জাহাজের ভাড়া  এবং অন্যান্য ব্যয় সম্প্রতি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। বাজারে অনেক বেশি অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই চূড়ান্ত পূর্বাভাস দেয়ার সময় এখনো আসেনি।

তিনি বলেন, আখচাষী ও চিনি উৎপাদকরা উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে উদ্বেগ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও যুদ্ধের পরই আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় যে বিক্রয়মূল্যকে ছাড়িয়ে যাবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। 

গত বছর নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) চিনির দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু চলতি বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সার, কীটনাশক ও ডিজেলের দাম পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এ কারণে চাষীদের জন্য উৎপাদন ব্যয় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।