চলতি বছর চালের বৈশ্বিক রফতানি পাঁচ কোটি টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কৃষিপণ্যটির রফতানি ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চাল রফতানি প্রসারে জ্বালানি জুগিয়েছে ক্রমবর্ধমান আমদানি চাহিদা। বিশেষ করে আফ্রিকার নাইজেরিয়া, আইভরিকোস্ট এবং এশিয়ার চীন ও নেপালে আমদানি চাহিদা ছিল সর্বাধিক। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।
বিশ্ববাজারে চালের যে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা মূলত ভারতই পূরণ করতে সহায়তা করছে। ২০১৯ সালের পর দেশটি দ্বিগুণেরও বেশি চাল রফতানি করছে। এদিকে ভারতের পর শীর্ষ তালিকায় ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড। চলতি বছর এ দুই দেশের চাল রফতানিও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও পণ্যটির বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারতই তাদের আধিপত্য ধরে রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারত বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদন করছে। মৌসুমের শুরুতে দেশটির মজুদও ছিল পর্যাপ্ত। ফলে দেশটিতে চালের সরবরাহ ব্যাপক। এক বছর ধরে ভারত সরকার চালসহ অন্যান্য প্রধান পণ্য উৎপাদন সম্প্রসারণে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে কৃষকদের জন্য প্রণোদনা বাড়ানো হচ্ছে। চালের দাম যাতে নির্দিষ্ট পর্যায়ের নিচে না নেমে যায়, সে লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে বাড়ানো হচ্ছে মিনিমাম প্রাইস সাপোর্ট (এমএসপি)। এ কারণে দেশটিতে চাল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। কৃষিপণ্যটি আবাদে উৎসাহ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে।
বর্তমান বিশ্ববাজারে স্বল্পমূল্যের চালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আর দুই বছর ধরেই ভারতীয় চালের বাজারদর অন্যান্য রফতানিকারক দেশের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। দেশটি গভীর সমুদ্রবন্দরগুলোয় বিপুল বিনিয়োগ করেছে। ফলে দেশটি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে চাল রফতানি করতে সক্ষম হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছর যদি চালের বৈশ্বিক আমদানি কমে যায়, তার পরও নির্দিষ্ট কিছু আমদানিকারক দেশ ভারতের চাল রফতানি বাড়াতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে শীর্ষ আমদানিকারক চীন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভারতীয় ভাঙা চাল আমদানি করছে। ভিয়েতনাম শীর্ষ রফতানিকারক হলেও দেশটি ভারত থেকে ভালো পরিমাণ ভাঙা চাল আমদানি করছে।
তুলনামূলক কম দামে সেদ্ধ ও কাঁচা সাদা চাল সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে ভারতের। এ কারণে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে দেশটির চাল রফতানি বাড়ছে। দেশটির সুগন্ধিযুক্ত বাসমতি চাল এ বছরও বিশ্ববাজারে আধিপত্য করতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সবচেয়ে বেশি আমদানি করবে এ জাতের চাল।
চলতি বছর ৭০ লাখ টন চাল রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে থাইল্যান্ড। গত বছরের তুলনায় রফতানি ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে। থাইল্যান্ড বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক। বেশ কয়েক বছর ধরেই পণ্যটির রফতানি খাত বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে মহামারী শুরুর বছর। বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান হারায় দেশটি। দেশজুড়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। থাই রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছর থাইল্যান্ডের মুদ্রার তুলনামূলক স্থিতিশীল দামের কারণে চাল রফতানিকারকরা লাভবান হবেন। এতে থাই চালের দাম বাজারে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া অনুকূল আবহাওয়াও রফতানিতে সুবিধা দিচ্ছে।










