ভ্রমণ ব্যয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও মহামারী-পরবর্তী সময়ে পর্যটন খাতে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হয়েছে। টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাপনের খরচে উল্লম্ফন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার পরও পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। খবর রয়টার্স।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে উদ্বিগ্নতা দেখা দিয়েছিল উড়োজাহাজ চলাচল সংস্থাগুলোর টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে, একই সময়ে রয়েছে হোটেল ভাড়া ও ভ্রমণসংক্রান্ত খরচ। তবে বিশ্লেষকদের ভাষ্যানুযায়ী, চলতি বছরে পর্যটনকেই ভোক্তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে চাহিদা হিসেবে।
আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল সংস্থার (আইএটিএ) প্রতিবেদন অনুসারে, আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল মহামারীপূর্ব পরিস্থিতির ৯০ শতাংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটকরা ভ্রমণের পরিসংখ্যান ঊর্ধ্বমুখী রাখার ব্যাপারে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা এলইকে কনসাল্টিংয়ের জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা ড্যান মাকোনি দাবি করেছেন, মহামারীর শেষদিকে এসে অধিকাংশ মানুষই তাদের কর্মপরিকল্পনা নতুন করে সাজিয়েছে, সে পরিকল্পনার শীর্ষে রেখেছে ভ্রমণকে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমাদিউস পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছর পর্যটন খাত আরো শক্তিশালী হবে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশ মানুষই ২০২৩ ও ২০২৪ সালের পরিকল্পনায় পর্যটনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, গত বছরে হারটি ছিল ৪২ শতাংশ। আমাদিউসের জরিপ পরিচালিত হয়েছে ফ্রান্স, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও সিঙ্গাপুরের পর্যটকদের নিয়ে।
ভ্রমণ পরিচালনা প্রতিষ্ঠান বুকিং হোল্ডিংস ও এয়ার বিএনবির আয় বেড়েছে যথাক্রমে ২৭ ও ১৮ শতাংশ। উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ডেল্টা ও হোটেল পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালেরও উল্লেখযোগ্য আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। জার্মান উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠান লুফথানসা জানিয়েছে, চলতি বছরের বুকিংয়ের হার মহামারীপূর্ব পরিস্থিতির ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত সম্প্রসারণ হবে গ্রীষ্মকালীন পরিষেবা। এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে পরিষেবায়। অন্তর্ভুক্ত শহরের মধ্যে রয়েছে ম্যানিলা, হংকং, তাইপে ও টোকিও।
মুডি’স ইনভেস্টর সার্ভিসের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিসরে চলতি বছরে পর্যটন চাহিদা ২২ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে বাড়তে পারে ৬ শতাংশ। টিকিটের মূল্য বাড়ার পর অনেকেই যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। উইজ এয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোসেফ ভারাদি বলেছেন, ‘প্রত্যেকেই চাহিদার বিপরীতে মূল্যনির্ধারণ করেছে, অর্থনীতির মৌলিক ধারণার সঙ্গে যা বিপরীত। বর্তমানে সবকিছুতেই ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। ফলে টিকিটের মূল্যনির্ধারণের ক্ষেত্রেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’
মহামারীসংক্রান্ত বিধিনিষেধ সরিয়ে নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক পর্যটন সূচকে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যটন অফিস থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ মে মাসে গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়ে ৫৩ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সংখ্যাটি এখনো মহামারীপূর্ব ২০১৯ সালের মে মাসের তুলনায় ২০ শতাংশ কম।
গড়ে অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজ ভাড়া বর্তমানে ২৪৬ ডলার, যা ২০২২ সালের এ সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৮ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হোটেল খরচ আগামী দিনগুলোয় আরো বাড়বে। বিশেষ করে সরবরাহ সংকট ও চাহিদা কমায়। ম্যারিয়টের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা ক্যাথলিন ওবের্গ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সূচক থাকবে তুলনামূলক ঊর্ধ্বমুখী। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পরিবেশে অনেকটাই সাধারণ সময়ের রূপ দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের স্বত্বাধিকারী আইএজি জানিয়েছে, চাহিদা টেকসই হবে কিনা তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের বিষয়টি এখনো মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগামী দিনগুলোয় পর্যটন খাতে নিম্নগতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।










