নয় মাস পর প্রথমবারের মতো বেড়েছে সৌদি আরবের বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত। চলতি বছরের জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ৬০০ কোটি সৌদি রিয়াল বা ১৬০ কোটি ডলার বেড়েছে উদ্বৃত্ত, যা ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৫০ কোটি সৌদি রিয়ালে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারিতে যা ছিল ৩ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। খবর আরব নিউজ। 

জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকস প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, গত বছরের মে মাসে ৮২০ কোটি সৌদি রিয়াল বাড়ার পর উদ্বৃত্ত সূচক নিচের দিকে নামতে থাকে। প্রতি মাসে গড়ে ৬৪০ কোটি সৌদি রিয়ালে নামে ব্যবসায়িক উদ্বৃত্ত। তবে ফেব্রুয়ারির বৃদ্ধির কারণ প্রধানত ছিল পণ্য আমদানি কমে যাওয়া যা মূলত পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।

জানুয়ারিতে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৫ হাজার ৬৬০ কোটি সৌদি রিয়াল। সৌদি পণ্য রফতানিও ফেব্রুয়ারিতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ৪৭০ কোটি সৌদি রিয়াল কমে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১১০ কোটি সৌদি রিয়ালে। বছরওয়ারি জ্বালানি তেলবহির্ভূত অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা ফেব্রুয়ারিতে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯০ কোটি সৌদি রিয়ালে পৌঁছেছে।

নতুন প্রতিবেদনে জিএএসটিএটির দাবি কেমিক্যাল ও অন্যান্য তেলবহির্ভূত শিল্প খাতের রফতানি ২০ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। খাতটি ফেব্রুয়ারিতে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ পণ্য রফতানি করেছে। সার্বিকভাবে পণ্য রফতানির ১২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১১০ কোটি সৌদি রিয়ালে। এক বছর আগে যার পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৫৮০ কোটি রিয়াল। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির তেল রফতানি ১১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। সৌদি আরবের পণ্য আমদানি ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৬৬০ কোটি রিয়ালে দাঁড়িয়েছে। যা গত বছরের এ সময়ে ছিল ৪ হাজার ৯০০ কোটি রিয়াল।

ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি আমদানি হওয়া পণ্য ছিল মেশিনারি সামগ্রী, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম। চীন বৈশ্বিক আমদানিকারক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের তালিকায় প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির মোট ব্যবসার ১৭ দশমিক ৪ শতাংশই যায় চীনে, যার মূল্যমান ১ হাজার ৭৬০ কোটি রিয়াল। তার পরের অবস্থানেই রয়েছে জাপান। জাপানে ১০ দশমিক ১ শতাংশ রফতানি করে দেশটি। অন্যদিকে ভারতে রফতানি করে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। জাপানে ১ হাজার ২০ কোটি রিয়াল ও ভারতে ৯৯০ কোটি রিয়াল মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। 

সৌদি আরবের আমদানি উৎস হিসেবেও প্রথম স্থান ধরে রেখেছে চীন। দেশটির আমদানি করা মোট পণ্যের ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ আসে চীন থেকে। যার মূল্যমান ১ হাজার ৩২০ কোটি রিয়াল। পরবর্তী স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।