সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট কমে যাওয়ার পাশাপাশি গাড়ি বিক্রি বাড়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে জেনারেল মোটরসের (জিএম) মুনাফায় উল্লম্ফন ঘটেছে। এ সময় মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা এক বছর আগের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। খবর এপি।

সম্প্রতি ডেট্রয়েটভিত্তিক গাড়ি নির্মাতা জানায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ডলারে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৪২ কোটি ডলার। জিএমের সবচেয়ে লাভজনক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ শতাংশ বিক্রি বাড়ার ফলে মূলত মুনাফায় এ উল্লম্ফন হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কম্পিউটার চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সরবরাহে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। ফলে আরো বেশি গাড়ি তৈরি ও বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা সংস্থাটির। মুনাফা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অধিক ব্যয়বহুল পিকআপ ট্রাক ও বড় এসইউভির বিক্রি বৃদ্ধি অবদান রেখেছে। এ সময়ে সংস্থাটির আয় ৫৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। যদিও এ আয়ের পরিমাণ ফ্যাক্টসেটের জরিপে ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ৪ হাজার ২১০ কোটি ডলারের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। জিএমের ৮০ শতাংশেরও বেশি রাজস্ব আসে উত্তর আমেরিকা থেকে।

মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি ৯৬০ কোটি থেকে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার বার্ষিক নিট মুনাফার পূর্বাভাস পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি সংস্থাটি এখনো ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের করপূর্ব মুনাফার প্রত্যাশা করছে।

সংস্থাটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা পল জ্যাকবসন সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও নতুন গাড়ির চাহিদা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাজারে আমাদের পণ্যের মূল্য বেশি হলেও চাহিদা ব্যাপক।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে এক বা দুটি যন্ত্রাংশ ছাড়া নির্মিত ৯০ হাজার ইউনিট গাড়ির প্রায় ৭৫ শতাংশই সম্পূর্ণ সরবরাহ করেছে জিএম। সেপ্টেম্বর শেষে ডিলারে জিএম গাড়ির মজুদ ৩৫ কোটি ৯০ লাখ ইউনিটে দাঁড়াবে। এ সংখ্যা দ্বিতীয় প্রান্তিকের ২৪ কোটি ৮০ লাখের চেয়ে বেশি।

পল জ্যাকবসন বলেন, সামগ্রিকভাবে চিপ ঘাটতির পরিস্থিতি এক বছর আগের তুলনায় ভালো হচ্ছে। সংস্থাটি কোনো মন্দার লক্ষণ দেখতে না পেলেও অব্যাহতভাবে অর্থনীতি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নেই। কিন্তু নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে বাছাই করতে হচ্ছে। এখনো সুদহার ও গ্যাসোলিনের মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। এগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সাল পর্যন্ত জিএমকে ভোগাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করোনা অতিমারী শুরুর সময় থেকে কম্পিউটার চিপসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের স্বল্পতায় পুরো গাড়ি শিল্প খাতটিই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অতিমারীর প্রথমদিকে গাড়ি শিল্পের কারখানাগুলো বন্ধ রাখা হয়। যদিও খাতটি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায়।

জিএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেরি বাররা জানিয়েছেন, যন্ত্রাংশ সরবরাহের উন্নতি হলেও সংস্থাটি চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এটা এখনো খুবই কঠিন। এমনকি একটি সামান্য ধাক্কাও সাধারণত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সানফ্রান্সিসকো থেকে অস্টিন, টেক্সাস ও ফনিক্সের মধ্যে স্বচালিত রাইড-হেইলিং সেবা সম্প্রসারণের কারণে সংস্থাটির ক্রুজ অটোনোমাস ভেহিকল ইউনিট প্রায় ৫০ কোটি ডলার লোকসান গুনেছে। এছাড়া কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ তহবিলের জন্য হিসাবে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, ২০২৫ সাল নাগাদ ক্রুজ ইউনিট থেকে বার্ষিক আয় ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে।