দেশে চলমান কারফিউ ও গত কয়েক দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় তার প্রভাব পড়েছে আমদানি-রফতানিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিভিন্ন পণ্যের খালাস কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে আদা, রসুন, পেঁয়াজসহ অন্যান্য মসলাপণ্যের দাম। ইন্টারনেট চালু ও খালাস কার্যক্রম শুরু না হলে নিত্যপণ্যের বাজার আরো অস্থিতিশীল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। 

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মসলাপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে আদা ও রসুনের। গতকাল পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৭৫ টাকায়। বৃহস্পতিবারও একই মানের রসুন বেচাকেনা হয়েছিল কেজিপ্রতি ১৫০-১৫২ টাকায়। এ হিসাবে চারদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি রসুনের দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ টাকা। 

একইভাবে চীন থেকে আমদানীকৃত আদার দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকা বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি আদা পাইকারিতে বেচাকেনা হয়েছে ২৮০-২৯০ টাকায়, বৃহস্পতিবার যা ছিল প্রতি কেজি ২৫০ টাকা। 

এদিকে ভারতীয় ও দেশী পেঁয়াজের দাম গত বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে সীমিত পরিসরে এখনো এ পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। তাই এর পর থেকে মসলাপণ্যটির দাম বাড়তি অবস্থায় স্থিতিশীল রয়েছে। আমদানীকৃত পেঁয়াজ গতকাল পাইকারিতে বেচাকেনা হয়েছে কেজিপ্রতি ৮৮-৯৫ টাকায়। পাইকারিতে দেশী পেঁয়াজ বর্তমানে কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। 

এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে আদা ও রসুনের বাজার নির্ভর করে আমদানির ওপর। বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত আমদানি হলেও খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এ কারণে প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে আদা ও রসুনের দাম। ভারতীয় ও দেশী পেঁয়াজের দাম বৃহস্পতিবারের পর থেকে বাড়তি অবস্থায় স্থিতিশীল থাকলেও দ্রুত সরবরাহ না হলে আদা ও রসুনের বাজার আরো অস্থিতিশীল হতে পারে।’ 

পাইকারি ও খুচরা বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারগুলোয় আদার সংকট সবচেয়ে বেশি। বন্দর থেকে চাহিদা অনুযায়ী খালাস না হওয়ায় বাজারে মজুদের পরিমাণ কম। দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলন ও কারফিউ জারির ফলে সরবরাহ শূন্যের কোটায় নেমে গেছে। খাতুনগঞ্জের বড় আড়তগুলোয় আদার মজুদ কমে আসায় দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তবে দেশী রসুনের সরবরাহ থাকায় পণ্যটির দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আদা-রসুনের সংকট থাকলেও পেঁয়াজের সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক। গতকালও খাতুনগঞ্জে অন্তত ১৫ ট্রাক পেঁয়াজ আনলোডিং হয়েছে। মূলত রাতের বেলা নিত্যপণ্য হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পেঁয়াজ পাঠিয়েছেন আড়তদাররা। তাছাড়া দ্রুত পচনশীল হওয়ায় ঝুঁকি সত্ত্বেও পাইকারি বাজারগুলোয় পেঁয়াজ পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। 

খাতুনগঞ্জের সৌমিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌বৃহস্পতিবার থেকে পাইকারি বাজারগুলোয় মসলাপণ্যের সরবরাহ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। এর মধ্যে হোটেল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চাহিদাও কমেছে। কিন্তু পাঁচদিন ধরে সরবরাহ না থাকায় আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম চড়া। নিত্য ও পচনশীল পণ্য হিসেবে মসলাপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি পাহারায় হলেও পরিবহন ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।’