জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির চাহিদা। তবে প্রথাগত এসি বর্তমানে পরিবেশের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কম্প্রেসর ও ক্ষতিকারক রেফ্রিজারেন্টবিহীন ‘সলিড-স্টেট কুলিং’ প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী ও পরিবেশবাদীদের নজর কাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) জানিয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ঘর শীতলকরণের জ্বালানি চাহিদা বর্তমানের তুলনায় বেড়ে দাঁড়াবে তিনগুণে। এতে খাতটির বাজারে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রচলিত এসিতে ব্যবহৃত হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (এইচএফসি) গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী গ্রিনহাউজ গ্যাস। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ২-৩ শতাংশের জন্য দায়ী এ রেফ্রিজারেন্ট নিঃসরণ, যার প্রভাব বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতের দূষণের প্রায় সমান। ইউরোপে প্রোপেন গ্যাসের মতো বিকল্প ব্যবহার শুরু হলেও এর দাহ্যতা নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সলিড স্টেট প্রযুক্তি একটি কার্যকর ও টেকসই বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিমিক সিস্টেমস ও ফনিকের মতো স্টার্টআপগুলো ঊনিশ শতকের প্রথাগত কম্প্রেসর প্রযুক্তির বদলে আধুনিক থার্মো-ইলেকট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ প্রযুক্তিতে কোনো সচল যন্ত্রাংশ (মুভিং পার্টস) নেই। এতে বিস্মুথ ও টেলুরিয়ামের মতো কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে তাপ স্থানান্তর করা হয়। মডুলার প্রযুক্তির এ ছোট ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে যুক্ত করে বড় ভবনের কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (সেন্ট্রাল এসি) বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে সলিড স্টেট কুলিং বাজারের মূল্য ছিল ১০০ কোটি ডলারের নিচে। তবে ২০৩২ সাল নাগাদ এটি ৪৫৫ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক এসির বাজার ২০৩৫ সালে ৩০ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। বিশাল এ বাজারের একটি বড় অংশ দখল করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে নতুন প্রযুক্তিটি। যদিও বর্তমানে এর উৎপাদন খরচ প্রথাগত এসির তুলনায় দ্বিগুণ, তবুও দীর্ঘমেয়াদে এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ১০-১৫ শতাংশ কম এবং এটি সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত। ২০২৬ সাল নাগাদ এর বাণিজ্যিক উৎপাদন পূর্ণমাত্রায় শুরু হলে এবং উৎপাদন খরচ কমলে এটিই হতে পারে কুলিং ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ। খবর সিএনএন