দেশের পুঁজিবাজারে বেশ কয়েক মাস ধরেই সূচক ও লেনদেনে নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় গত আগস্টেই পুঁজিবাজারে লেনদেন কমেছে ৪৪ শতাংশ। এ অবস্থায় গতকাল ৪০ দিন পর পুঁজিবাজারে লেনদেন ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। লেনদেনের পাশাপাশি এদিন সূচকও বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। মাঝে কিছুটা নিম্নমুখী দেখা গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত দিন শেষে আগের দিনের তুলনায় ৬ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ হাজার ৩০৮ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ গতকাল প্রায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৩৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, গতকাল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির তুলনায় কেনার প্রবণতা ছিল বেশি। ফলে দিন শেষে ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। খাতভিত্তিক শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে মুনাফা অর্জনের প্রবণতা ছিল লক্ষণীয়। বিশেষ করে বীমা খাতে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়।
ডিএসইতে গতকাল ৭৩৪ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৫৭৭ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৪০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৮৯টির, কমেছে ৬৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৮৩টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩০ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ৬ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিবিধ খাত।










