এপ্রিলে অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে চীনের উৎপাদন কার্যক্রম। গতকাল প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্যে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী নিম্ন চাহিদা ও আবাসন খাতের দুর্বলতার মধ্যে কভিড-১৯ পরবর্তী পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি নীতিনির্ধারকদের চাপের মধ্যে ফেলেছে। খবর রয়টার্স। 

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুসারে, মার্চে দেশটির অফিশিয়াল ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ছিল ৫১ দশমিক ৯ পয়েন্ট। এপ্রিলে তা দুই ধাপ কমে ৪৯ দশমিক ২-এ নেমে আসে। উল্লেখ্য, পিএমআই মানদণ্ড অনুসারে সূচক ৫০ পয়েন্টের নিচে হলে তা অর্থনৈতিক কার্যকলাপের সংকোচন ও ওপরে সম্প্রসারণকে নির্দেশ করে।

যদিও রয়টার্সের জরিপে অংশ নেয়া অর্থনীতিবিদরা পিএমআই ৫১ দশমিক ৪ পয়েন্ট সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে ডিসেম্বরের পর এপ্রিলেই প্রথম দেশটির পিএমআই সংকোচনকে চিহ্নিত করা হলো। ডিসেম্বরে অফিশিয়াল ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ছিল ৪৭ পয়েন্ট।

শক্তিশালী পরিষেবা খাতের কার্যক্রমের সূত্র ধরে প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর এ অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়। যদিও বৈশ্বিক দুর্বল প্রবৃদ্ধির মধ্যে কারখানার আউটপুট পিছিয়ে গেছে। দামের ক্ষেত্রে মন্থরতা ও ব্যাংকে সঞ্চয় বৃদ্ধির প্রবণতার মধ্যে চাহিদার পরিমাণ বাড়বে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পলিটব্যুরো শুক্রবার জোর দিয়ে বলেছে, পুনরুদ্ধার ও চাহিদা সম্প্রসারণ টেকসই পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি। এবিএসের জ্যেষ্ঠ পরিসংখ্যানবিদ ঝাও কিংহে এ সম্পর্কে বলেন, ‘বাজার চাহিদা এবং প্রথম প্রান্তিকে দ্রুত উৎপাদন পুনরুদ্ধারের অভাব এপ্রিলে সংকোচনের অন্যতম কারণ।’

পিএমআই অনুসারে, নতুন রফতানি আদেশ মার্চের ৫০ দশমিক ৪ পয়েন্ট থেকে এপ্রিলে ৪৭ দশমিক ৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। 

চীনের উৎপাদন খাতের সঙ্গে প্রায় ১৮ শতাংশ কর্মশক্তি সম্পৃক্ত; বিশ্বব্যাপী চাহিদা হ্রাসের কারণে যা এক ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশটির অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারকরা রয়টার্সকে বলেন, ‘‌তারা বিনিয়োগ কমানোর পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতি সামলাতে শ্রম খরচও কমিয়ে দিয়েছে।’

বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের মন্ত্রিসভা গাড়ি রফতানি সমর্থন, বিদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা সহজীকরণ ও কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ প্রদান করে, এমন সংস্থাগুলোকে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে সহায়তাসহ বেশকিছু পরিকল্পনার কথা জানায়।

চীনের প্রবৃদ্ধির অন্যতম স্তম্ভ আবাসন খাত বছরের পর বছর ধরে ভঙ্গুর দশায় নিমজ্জিত। ২০২০ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া একাধিক সংকটের মধ্যে ডেভেলপারদের ঋণখেলাপি হওয়ার মতো সমস্যা যেমন রয়েছে, তেমন বিক্রীত আবাসন প্রকল্পগুলোর নির্মাণ কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত নীতি সহায়তা কার্যক্রমগুলো শিল্পের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে কিছু খাতের দুর্বলতার কারণে অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার বিষয়টি এখনো অধরাই।

ভোক্তা চাহিদা বৃদ্ধি সত্ত্বেও উৎপাদন বহির্ভূত খাতের পিএমআই মার্চের ৫৬ দশমিক ৪ পয়েন্ট থেকে ৫৪ দশমিক ২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। তবে চলতি মাসের তথ্যানুসারে, মার্চে খুচরা বিক্রয় দ্রুতগতিতে বেড়ে দুই বছরের উচ্চতায় পৌঁছে। অর্থনীতিবিদরা অবশ্য এটির টেকসইয়ত্বের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন।

এদিকে উৎপাদন ও পরিষেবা খাত মিলিয়ে গণনাকৃত কম্পোজিট পিএমআই ৫৭ পয়েন্ট থেকে ৫৪ দশমিক ৪-এ নেমেছে। এ বিষয়ে পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝিওয়েই ঝাং বলেন, ‘পর্যটন খাতের বৃদ্ধির বিপরীতে আবাসনসহ অন্যান্য মিশ্র অর্থনৈতিক সংকেতগুলো দ্বিতীয় প্রান্তিকেও সহায়ক রাজস্ব ও আর্থিক নীতিগুলোকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখবে।’