দিনাজপুরের
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকলেও বাড়তে শুরু করেছে পণ্যটির দাম। দুদিনের ব্যবধানে পাইকারিতে দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা করে।
আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।
হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে নাসিক ও ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত। পাশাপাশি রাজস্থান জাতের পেঁয়াজ আমদানিও শুরু হয়েছে। দুদিন আগে বন্দরে প্রতি কেজি ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ (ট্রাকসেল) ৩৫-৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪০-৪১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৫-৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রাজস্থান জাতের পেঁয়াজ ৪৫-৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি ভালো থাকায় দাম কম ছিল। তবে হঠাৎ করে গত দুদিন দাম ঊর্ধ্বমুখী। ফলে আমাদের বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। যে পেঁয়াজ আমরা ২৮-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছিলাম, এখন তা বেড়ে ৪০-৪২ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার আব্দুস সবুর বলেন, ‘দুদিন আগে বন্দর থেকে যে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ৩৫-৩৬ টাকা কিনে মোকামে পাঠালাম, সে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৪০-৪১ টাকা হয়ে গেছে। নাসিক পেঁয়াজ ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৪৬ টাকায় পৌঁছেছে। বাড়তি দামের কারণে পেঁয়াজ কিনতে পারিনি।’
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক তোজাম্মেল হক বলেন, ‘দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। তবে সম্প্রতি ভারতের যেসব অঞ্চল থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়, বিশেষ করে নাসিক অঞ্চলে বন্যা হয়েছে। যার কারণে কৃষকরা খেত থেকে পেঁয়াজ তুলতে পারছেন না। এতে সে দেশের বাজারেই পেঁয়াজের সরবরাহে খানিকটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় বাড়তি। এ কারণে আমাদের বাড়তি দামে আমদানি করতে হচ্ছে। তাই দেশের বাজারেও পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। দেশের বাজারে যে পরিমাণ পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে, সে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায়ও দাম বাড়ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘৫-১০ আগস্ট পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ২৬১টি ট্রাকে ৭ হাজার ৮২৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।’










